‘গণতন্ত্রকে সরাসরি আক্রমণ করছে বিজেপি’, অভিযোগ করে বিজেপি বিরোধী নেতা ও বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি লিখে একজোট হওয়ার আহ্বান মমতার

গতকাল, সোমবার তুলকালাম কাণ্ড হয়েছে বিধানসভায়। তৃণমূল ও বিজেপির হাতাহাতিতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বিধানসভাতে। এই সংঘর্ষের জেরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ ৫জন বিজেপি বিধায়কদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। এবার আজ, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ আনলেন যে বিজেপি নাকি গণতন্ত্রকে সরাসরি আক্রমণ করছে। আর এই কারণেই এই বিজেপি বিরোধী নানান নেতা ও বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার জন্য চিঠি লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাম্প্রতিককালে, কয়লা পাচারকাণ্ডে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেশ কয়েকবার সমন পাঠিয়েছে ইডি। আবার এদিকে, তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলকেও গরু পাচারকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআইয়ের তরফে তলব করা হয়েছে। সব মিলিয়েই এবার তাই বিরোধী দল ও বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “বিজেপির হাতে যেভাবে দেশের গণতন্ত্র আক্রান্ত তাতে আমি উদ্বিগ্ন। বিরোধীদের হেনস্থা করার জন্য ইডি, সিবিআই, আয়কর, ভিজিল্যান্স কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। শীতকালীন অধিবেশেন দুটি বিল পাস করিয়েছে কেন্দ্র। এর জেরে ইডি, সিবিআই ডিরেক্টরদের কার্যকালের মেয়াদ ৫ বছর করা হয়েছে যা একেবারেই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরোধী”।

মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “বিজেপি যেভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করছে তা আমাদের ঠেকাতে হবে। ভোট এলেই এই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির আওতার বাইরে রাখা হয়। সরকার চালানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি আমরা কিন্তু তা বলে বিজেপির এই প্রতিহিংসার রাজনীতিকে সমর্থন করা যায় না। বিচারব্যবস্থার উপরে শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, রাজনীতির ঘোরপাকে মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছে না। গণতন্ত্র বিচার ব্যবস্থা, মিডিয়া, জনগণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়”।

এরপর মমতা লেখেন, “যদি কোনও একটা বিপর্যয় ঘটে যায়, তা হলে গণতন্ত্র ভেঙে পড়বে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যা অন্যায় করছে তার প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক দায়িত্ব রয়েছে আমাদের। এর জন্য আমি চাই বিরোধীরা সবাই একসঙ্গে এসে বৈঠকে বসুন। এই অত্য়াচারী শক্তিকে ঠেকাতে হবে”।

মমতার এই চিঠি নিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতা শমীক ভট্টাচার্য প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এরকম চিঠি নতুন কিছু নয়। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বিরোধীদের নেতাদের চিঠি দিতেই পারেন। সারদা, নারদ নিয়ে যে সিবিআই তদন্ত হচ্ছে তা হচ্ছে আদালতের আদেশে। সেই নির্দেশ ঠেকানোর জন্য রাজ্য সরকার আদালতে ঘুরেছে। অভিযোগ করেছিলেন আব্দুল মান্নান। আদালতে লড়েছিলেন বিকাশ ভট্টাচার্য। এসব যদি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে ব্যবহার করা হয় তাহলে উনি বিচার ব্যবস্থাকেই আক্রমণ করছেন”।

RELATED Articles