আর জি করের ঘটনার ৩৫ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও তরুণী চিকিৎসকদের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় বিচার পাওয়া বাকি। তবে হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না কেউই। জুনিয়র চিকিৎসকরা নিজেদের আন্দোলনে অনড়। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে ৬ দিন ধরে অবস্থান বিক্ষোভ চলছে তাদের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক হয়নি তাদের। আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের দাবী, সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসির গ্রেফতারির খবর পাওয়াতেই মুখ্যমন্ত্রী তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নি।
গতকাল, শনিবার বেলার দিকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্না স্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর এদিন সন্ধ্যেবেলা জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দল পৌঁছয় কালীঘাটে। কিন্তু সেই বৈঠকের লাইভ স্ট্রিমিং বা ভিডিও রেকর্ডিংয়ের অনুমতি দেয় নি প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত কোনও রকম শর্ত ছাড়াই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে চান জুনিয়র চিকিৎসকরা। কিন্তু তাদের বলা হয়, অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে, আর বৈঠক সম্ভব নয়।
এদিকে যখন কালীঘাটে জুনিয়র চিকিৎসকরা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারে কাকভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে, সেই সময় খবর মেলে তরুণী চিকিৎসকদের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে। একথা শোনার পর স্বাস্থ্য ভবনের সামনে বিক্ষোভরত চিকিৎসকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
কালীঘাট থেকে ফিরে এক আন্দোলনকারী চিকিৎসক বলেন, “এখন কী মনে হচ্ছে, বলুন তো! এই যে কিছুক্ষণ আগে আমাদের সহকর্মীর রেপ এবং মার্ডার কেসে এই যে সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার (প্রাক্তন) ওসিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই খবরটা তাঁরা (চ) পেয়ে গিয়েছিলেন। তাই হয়তো এই মিটিং করার সাহস পাননি”।
আরও পড়ুনঃ তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে সিবিআই র্যাডারে আরও ৪ উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক, নাম নিয়ে শুরু শোরগোল
জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবী, সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসি গ্রেফতারির পর এটা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে যে তাদের দাবী কতটা ন্যায্য। তারা বলেন, “এই সন্দীপ ঘোষ, এই টালা থানার ওসির সুতো কোথায় বাঁধা? এই স্বাস্থ্যভবন, এই বিনীত গোয়েল। যিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনার”।





