আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় গোটা রাজ্য তথা দেশ উত্তাল। সকল স্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ন্যায় বিচারের দাবীতে সরব সকলে। এই ঘটনায় প্রথমেই সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল, শনিবার এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডল।
সল্টলেকে স্বাস্থ্য ভবনে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা গতকাল, শনিবার কালীঘাটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠক হয়নি। এরই মধ্যে খবর মেলে আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই গ্রেফতার করেছে সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে। তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাদের।
এরপরই মেলে আরও এক বিস্ফোরক খবর। সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে শুধুমাত্র টালা থানার ওসিই নন, সিবিআই র্যাডারে রয়েছেন আরও ৪ উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক। টালা থানার ওসি উপরমহলের কোনও আধিকারিকের নির্দেশেই এই তথ্য প্রমাণ লোপাটের ঘটনায় জড়িত বলে সূত্রের খবর। এর নেপথ্যে রয়েছে বড় কোনও মাথা। আর সেই ৪ পুলিশ আধিকারিকই এই মুহূর্তে সিবিআইয়ের নজরে। সেই ৪ পুলিশ আধিকারিক আসলে কারা, তা জানা না গেলেও, সেই নাম যে বেশ প্রভাবশালী তা বেশ স্পষ্ট।
এদিকে আবার সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসি তথ্য প্রমাণ লোপাটের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়ার পর বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক সন্দেহজনক টুইট করেন। তিনি লেখেন, “অভিজিৎ মণ্ডল সেই একই ব্যক্তি যাঁকে বাঁচাতে খোদ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়িয়েছিলেন। গ্রেফতারি এড়াতে উনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু, কলকাতা পুলিশ দ্বারা রচিত এই চিত্রনাট্য়ে পা দিতে রাজি ছিল না হাসপাতালগুলি। কিন্তু, তারপরই হাসপাতালের এক প্রমোটারকে ফোন করে মমতা ধমকও দিয়েছিলেন”।
এখানেই না থেমে তিনি আরও লেখেন, “প্রতিবাদী জুনিয়র ডাক্তাররা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে নৃশংস অপরাধটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ফল, যা বাংলার জনস্বাস্থ্যকে ধ্বংস করেছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনারও মৃত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে এবং অপরাধ ধামাচাপা দিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন”। পরোক্ষভাবে কী তিনি কোনওভাবে পুলিশ কমিশনারের দিকে ইঙ্গিত করলেন, যদিও তা স্পষ্ট নয়।





