নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য (Manik Bhattacharya)। আজ, বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Justice Avijit Ganguly) নির্দেশে তাঁর এজলাসে নিয়ে আসা হয় মানিককে। প্রায় ২৯ মিনিট ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। ১৫ মিনিট আগে ডাকলেও ফের আসবেন তিনি, এজলাস ছাড়ার আগে এও বিচারপতিকে বলে গেলেন মানিক।
এদিন দুপুর ৩টে ১৬ নাগাদ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে হাজির হন মানিক ভট্টাচার্য। প্রথমের এদিন বিচারপতি তাঁকে প্রশ্ন করেন, “২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে কী জানেন”? মানিকের উত্তর, “আদালত ডেকেছে তাই এসেছি। আমি জেলে রয়েছি। আমার কাছে কোনও তথ্য বা নথি নেই। তাই স্মরণে যা আছে তাই বলতে পারি”।
২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সিলেকশন কমিটি তৈরি হয়েছিল কী না প্রশ্ন করায় মানিক বলেন, “হ্যাঁ, করা হয়েছিল। যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা পর্ষদ নিয়েছিল”। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার কে ফলপ্রকাশ করেছিল”? উত্তরে পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি বলেন, “এই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। যেমন টেট পরীক্ষার ফলপ্রকাশ, ইন্টারভিউ, অ্যাপ্টিটিউট টেস্ট ইত্যাদি। ফলে এগুলি বিভিন্ন পর্যায়ে হয়েছিল”।
বাইরের কোনও সংস্থাকে কী রেজাল্ট তৈরি করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল? বিচারপতির এই প্রশ্নের উত্তরে মানিক জানান, “এই পুরো প্রক্রিয়া পর্ষদ পরিচালনা করছে। তবে হ্যাঁ, একটি সংস্থাকে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তার নাম স্মরণে নেই”।
এরপরই এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানির প্রসঙ্গ তোলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। মানিক ওই সংস্থার নাম শুনেছেন কী না প্রশ্ন করায়, মানিক জানান, “হ্যাঁ, ওই ধরনের নাম শুনেছি। কিন্তু নিশ্চিত নই”।
এরপর বিচারপতি মানিককে জিজ্ঞাসা করেন, “সভাপতি হিসাবে আপনার সময় নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা ঠিক”? তিনি জানান, “অ্যাপ্টিটিউট টেস্ট নেওয়া হয়েছিল। তখন কেউ কোনও অভিযোগ করেনি। এমন কোনও রিপোর্ট আমার কাছে আসেনি”। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ নীতি মানা হয়েছিল এটা আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারবেন”? মানিক বলেন, “যতদূর মনে পড়ছে আইন অনুযায়ী হয়েছিল”।
এদিন এজলাস ছাড়ার আগে মানিক বিচারপতির উদ্দেশে বলেন, “যাওয়ার পথে একটা অনুরোধ করব। এই সংক্রান্ত যেকোনও মামলায় আমাকে ডেকে পাঠাবেন। ১৫ মিনিট আগে বললেই আমি চলে আসব। পরে আমার বিরুদ্ধে যাই পদক্ষেপ করবেন, মেনে নেব”।
সেই সময় বিচারপতি বলেন, “সত্য সামনে আসা দরকার”। মানিকের কথায়, “আমি সত্যিটাই বলতে চাই। সত্য সহজ। সত্য সুন্দর’”। এরপর বিচারপতি খানিকটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, “দশচক্রে ভগবান ভূত। মানিক ভট্টাচার্য আমাদের ডেপুটি শেরিফের শিক্ষক ছিলেন”।





