রক্ষকই যখন ভক্ষ*ক! লেকটাউনে পড়ানোর নামে বাড়িতে ডেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে নে’শার পানীয় খাইয়ে ধ*র্ষণের অভি’যোগ! গ্রেফ*তার গৃহশিক্ষক!

কলকাতায় ফের সামনে এল এক চাঞ্চ’ল্যকর যৌননির্যা’তনের অভিযোগ। উত্তর কলকাতার লেকটাউন এলাকায় এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে গৃহশিক্ষককে গ্রে’ফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, পড়ানোর নাম করে বাড়িতে ডেকে ছাত্রীকে মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে পরিবারের কাছে সব জানায় ওই ছাত্রী। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রে’ফতার করেছে লেকটাউন থানার পুলিশ। রবিবার তাকে বিধাননগর আদালতে তোলা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার দিন আগে ওই গৃহশিক্ষক তাঁর এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে পড়ানোর জন্য নিজের বাড়িতে ডাকেন। অন্য দিনের মতোই পড়তে গিয়েছিলেন ওই কিশোরী। অভিযোগ, পড়াশোনার পরিবর্তে ছাত্রীকে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। কিছুক্ষণ পর তাঁকে একটি ঠান্ডা পানীয় দেওয়া হয়। ছাত্রীর দাবি, সেই পানীয়ের মধ্যেই মাদকজাতীয় কোনও পদার্থ মেশানো ছিল। পানীয়টি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগেই তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।

বাড়িতে ফিরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের কাছে গোটা ঘটনার কথা জানান ওই ছাত্রী। অভিযোগ শোনার পর পরিবারের সদস্যরা দেরি না করে লেকটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়ার পর শনিবার গৃহশিক্ষককে গ্রে’ফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্রীর অভিযোগের প্রতিটি দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সময়, স্থান, সম্ভাব্য ফরেনসিক প্রমাণ এবং মাদক ব্যবহারের অভিযোগ-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে।

রবিবার ধৃ’ত অনিমেষ নাগকে বিধাননগর আদালতে তোলা হলে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায় পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার প্রকৃত সত্য জানতে অভিযুক্তকে জেরা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগে উল্লেখ করা মাদক মেশানো পানীয়, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, সম্ভাব্য ফরেনসিক প্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত। তাঁর দাবি, তিনি কোনও অপরাধ করেননি এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। যদিও পুলিশের বক্তব্য, অভিযোগ এবং সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে। আদালতের নির্দেশ মেনে আইনি প্রক্রিয়ার সমস্ত ধাপ অনুসরণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুনঃ টেলিভিশনের গণ্ডি পেরিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ‘নিরুপমা’ অর্কজা ভট্টাচার্যের! জুটি বাঁধছেন টলিপাড়ার এই জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে!

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেকটাউন এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একজন গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। যাঁদের উপর সন্তানদের শিক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, তাঁদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সমাজে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা আদালতে বিচার ও চলমান তদন্তের মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর