কলকাতা পুলিশকে নাকি স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়! কিন্তু সেই কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই সাধারন মানুষের। সম্প্রতি আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনায় তো সেই অভিযোগ মাত্রা ছাড়িয়েছে। আর এবার কলকাতা পুলিশ যে কাজ করল, তাতে যে জনরোষ আরও বাড়বে, তা বলাই বাহিল্য।
নানান সময় নানান ঘটনায় পুলিশের দিকে আঙুল তোলা হল কলকাতা পুলিশও বারবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ইমেজ বাঁচানোর কাজে লেগে পড়ে। কিন্তু এবার ইমেজ বাঁচানোই হয়ে দাঁড়াল কাল। এই ইমেজ বাঁচাতে গিয়েই আরও বেশি কালিমালিপ্ত হল পুলিশ সমাজ। নিজের পিঠ বাঁচাতে পুলিশও যে মিথ্যের আশ্রয় নেয়, তা হাতানাতে প্রমাণিত।
সম্প্রতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি বেশ ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, বাস থেকে টাকা নিচ্ছে পুলিশ। সেই ছবি পোস্ট করে পুলিশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ ওঠে চূড়ান্ত। এরপরই মাঠে নামে কলকাতা পুলিশ। তাদের তরফে ফেসবুকে পোস্ট করে জানানো হয়, সেই ছবিটি ‘ফেক’। সেই ছবি নাকি আসলে ২৫ আগস্টের আর আইন মেনেই জরিমানা নেওয়া হচ্ছিল। এমনকি, চালানের ইমেজও পোস্ট করে পুলিশ।

তবে নাটকের যবনিকা পতনের এখনও বাকি। এবার আসে কাহিনীতে ‘টুইস্ট’। নেটিজেনরা আরও একটি পোস্ট করে দাবী করেন, সেই ছবিটি আসলে ২০২৩ সালের একটি ঘটনার। সেই সম্পর্কে প্রমাণও দেওয়া হয়। ‘আমরা বেহালাবাসী’ নামে এক ফেসবুক পেজ থেকে সেই ছবিটি পোস্ট করা হয়েছিল ২০২৩ সালে।

আর এরপরই ওঠে পুলিশের দিকে আঙুল। প্রশ্ন ওঠে, বাস থেকে টাকা নেওয়ার ছবিটি যদি ২০২৩ সালেরই হয়ে থাকে, তাহলে চলতি বছরের ২৫ আগস্টের চালানের ছবি এল কীভাবে? কীভাবে এই বছর জরিমানা করল পুলিশ? এমন নানান প্রশ্নবাণে যখন বিদ্ধ পুলিশ, সেই সময় দেখা গেল হঠাৎই কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজ থেকে তাদের আগের পোস্টটি উধাও। শুধু তাই নয়, এরপর ‘ফেক’ লেখা পোস্টটিও সরিয়ে দেয় পুলিশ।

এর জেরে পুলিশের দিকে আরও বেশি প্রশ্ন উঠেছে। তাহলে কী নিজের জালে নিজেই ফেঁসে গেল পুলিশ? অনেকের আবার প্রশ্ন, সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান ‘ফেক’ খবর ছড়ানোর অভিযোগে পুলিশের গ্রেফতারির সংখ্যাসীমা নেই। তাহলে এবার নিজেদের এই গাফিলতির জন্য কী কোনও সাফাই দেবে পুলিশ বা নিজেদের ভুল কী সর্বসমক্ষে স্বীকার করবে? যদিও এই প্রশ্নের জবাব হয়ত মিলবে না। কিন্তু নাগরিক সমাজের প্রশ্ন তো আর থেমে থাকে না।






