সিঁথির মোড়ই নয়, ধর্মতলার ধর্না মঞ্চেও মদ্যপ যুবকের তাণ্ডব, শ্লীলতাহানির চেষ্টা, উত্তেজনা স্বস্তিকা-সোহিনীদের ধর্না মঞ্চে

আর জি কাণ্ডের প্রতিবাদে আজ, রবিবার মহা মিছিলের ডাক দেয় নাগরিক সমাজ। এই মিছিলে যোগ দেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, চৈতি ঘোষাল, সোহিনী সরকার, বিদিপ্তা চক্রবর্তী, উষসী চক্রবর্তী-সহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষও। ধর্মতলায় অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন তারা। তাদের সেই ধর্নার মধ্যেই চড়াও হয় এক মদ্যপ যুবক। এক মহিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় উত্তেজনা ধর্না মঞ্চের চত্বর।

রবিবার দুপুরে কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয় এই মিছিল। হাজার হাজার মানুষ যোগ দেন এই মিছিলে। তারকা তো বটেই সাধারণ মানুষের ঢল চোখে পড়ে এই মহা মিছিলে। সকলের একটাই দাবী, ন্যায় বিচার চাই-ই চাই। সাধারণ নাগরিকের এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের কপালে বাঁধা ফেট্টিতে দেখা যায় একটাই কথা, ‘আমরা তিলোত্তমা’।

এদিন মিছিলের পর ধর্মতলায় অবস্থান বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকেই তারা জানান, সরকারকে তাদের দাবী তারা সরাসরি জানাতে চান। তারা জানিয়েছেন, তাদের তরফে সরকার-প্রশাসনকে মেইল করা হয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সরকারের তরফে কেউ সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন, ততক্ষণ তাদের এই ধর্না চলবে। প্রয়োজন পড়লে ভোররাত পর্যন্ত এই ধর্না চালাবেন তারা, এমনটাই দাবী ধর্নায় অংশগ্রহণকারীদের।  

তাদের এই ধর্নার মধ্যে আচমকাই রাত ৯ টা ৫৫ মিনিট নাগাদ  ধর্না মঞ্চের ভিড়ে তাণ্ডব চালায় এক মদ্যপ যুবক। আন্দোলনরত মহিলাদের উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে ওই যুবক, এমনটাই অভিযোগ। তার পিছু ধাওয়া করে অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন আন্দোলনকারীরা।

ওই যুবককে টানতে টানতে আনা হয় ধর্না মঞ্চের সামনে। কে বা কারা তাকে পাঠিয়েছে, কেন এই শান্তিপূর্ণ ধর্না মঞ্চে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করল সে, সেই প্রশ্ন করা হয় তাকে। যদিও কোনও জবাব মেলেনি। জানা যায়, ঘটনাস্থলে থাকা পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের কথায়, “২৩ দিন হয়ে গিয়েছে। একজন মানুষের পক্ষে তো এতবড় একটা ঘটনা ঘটানোটা সম্ভব নয়। যদি এতটাই সহজ ছিল তাহলে প্রথমেই এটাকে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার দরকার পড়ল কেন? সিবিআই এতদিন ধরে তদন্ত করছে এবার তো কোনও একটা আপডেট আসা উচিত। পুরোটাই ধোঁয়াশা হয়ে রয়েছে। অন্ধকারে রয়েছি”।

তাঁর সংযোজন, “সবাই ভেবেছিল ওই ২-৪ দিন সবাই খুব চিৎকার-চেঁচামেচি করবে। তারপর গোটা ব্যাপারটাই হালকা হয়ে যাবে। আমার মনে হয় না এটা নিয়ে এত দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে এবার আমাদের টলানোটা খুব সহজ হবে”।

আরও পড়ুনঃ সরকারের তরফের কেউ কথা না বললে অবস্থান উঠবে না, ধর্মতলায় ধর্নায় বসে স্পষ্ট জানালেন স্বস্তিকা-বিদিপ্তা-সোহিনী, ভোররাত পর্যন্ত চলবে ধর্না 

বলে রাখি, এদিন শুধুমাত্র কলেজ স্কোয়ার থেকেই নয়, শহরের নানান প্রান্ত থেকে বের হয় মিছিল। বেহালা, গোলপার্ক, গড়িয়াহাট, রাসবিহারী, ভবানীপুর, নন্দন, ব্যারাকপুর, চুঁচুড়া, বারুইপুর, বর্ধমান, সোনারপুর, ইছাপুর, নৈহাটি, ইত্যাদি জায়গাতেও মিছিল, জমায়েত, সমাবেশ চলে। এদিন কলকাতার একাধিক স্কুলের প্রাক্তনীরাও নানান জায়গায় মিছিল করেছে। অনেক খুদেকেও দেখা যায় মিছিলে পা মেলাতে। সকলের একটাই দাবী, আর জি কর কাণ্ডের ন্যায় বিচার।

RELATED Articles