আর জি কর হাসপাতালের (R G Kar Hospital) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষ’ণ এবং খু’নের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা রাজ্য। বর্তমানে চলছে জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিবাদ আন্দোলন। জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সমাজের সাধারণ মানুষেরা। এই আবহেই আন্দোলনকে কটাক্ষ করে নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া একের পর এক পোস্ট করেছেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এবং দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattacharya)। তারা রীতিমতো আক্রমণ করে পোস্ট করেছেন আন্দোলনকারী এক টেলিভিশন অভিনেত্রী মৌসুমী ভট্টাচার্যকে (Mousumi Bhattacharya)। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে ঝড়।
সম্প্রতি কুনাল ঘোষ নিজের সোশ্যাল মিডিয়া একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেই ভিডিওটি ছিল প্রতিবাদ আন্দোলনে নামা অভিনেত্রী মৌসুমীর। ভিডিওতে ওই অভিনেত্রী কুনাল ঘোষ এবং দেবাংশুর নাম নিয়ে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই যে কুণাল ঘোষ, আর এই যে ছেলেটা, ওর নামও ভুলে যাই। দেবাংশু। পাবলিক যেদিন হাতে পাবে, সেদিন কে ওদের বাঁচাবে আমি দেখব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু ওঁদের বাঁচাতে আসবেন না। ওই যে ঘরে বসে বড় বড় লেকচার দেয় প্রেসের সামনে, একদিন না একদিন তো পাবলিকের সামনে আসতেই হবে। একদিন না একদিন তো ডাক্তারের কাছে পড়তেই হবে, কারণ অসুস্থ সবাই হয়। সেই দিনটা খুব ভয়ানক ওদের কাছে”।
এই ভিডিও কুনাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেবাংশুকে ট্যাগ করেন। ওই নায়িকাকে দেবাংশুর ‘পাত্রী’ করার প্রস্তাব দেন। কটাক্ষের সুরে তিনি লেখেন, “নিজেকে এখনই ভাসুর ভাসুর লাগছে”। দেবাংশুও এই পোস্ট শেয়ার করে বেশ কিছু বিতর্কিত শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন। ওই অভিনেত্রী সম্পর্কে দেবাংশু ‘বড় দজ্জাল’, ‘টিকবে কি?’, ‘লাইফ হেল করে দেবে’, ‘বদন বিগড়ে গেছে’, ‘বিবাহিত তো’ প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করেছেন। এই নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন দুই তৃণমূল নেতা।

এই প্রসঙ্গে ওই অভিনেত্রী মৌসুমী ভট্টাচার্য বলেছেন, “আমরা তো সেলিব্রিটি। সেলিব্রিটিদের অনেক বড় বড় ফ্যান থাকেন। সেই জায়গা থেকে অনেকেই অনেক রকম ফ্যান্টাসি করেন। আমরা ইউজসড টু। কিন্তু যে ভাষায় লিখেছেন, আমি রিপ্লাই করছি, কুণাল ঘোষ পাগল, আর দেবাংশু কালীঘাটের কুলি”।
অভিনেত্রীর কথার ফের পাল্টা উত্তর দিয়েছেন কুনাল ঘোষ এবং দেবাংশু ভট্টাচার্য দুজনেই। কুনাল ঘোষ নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “যখন এক মহিলা প্রকাশ্যে আমাকে, দেবাংশুকে মারার কথা বলেন, ডাক্তারদের দিয়ে চিকিৎসা না করানোর হুমকি দেন, তখন সেটা নাকি ‘বাক্যালাপ’! আর এর পাল্টা আমরা হাল্কা রসিকতা দিয়ে জবাব দিলে সেটা তখন পুরুষতান্ত্রিক”। দেবাংশু প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “সেই মহিলার দেওয়া খুনের হুমকি নিয়ে কারোর কোন পোস্ট নেই! কারোর নিন্দে নেই! আর সেই বুদ্ধিজীবীরা আমাদের লেখা নিয়ে খাপ পঞ্চায়েত বসিয়েছেন! অসাধারণ”।
দুই তৃণমূল নেতার এভাবে একজন মহিলাকে আক্রমণ করার ঘটনায় সরব হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি তার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ” মহিলারা রাত জাগছে মহিলাদের সম্মানের, মর্যাদার দাবিতে। তৃণমূল মুখপাত্ররা অনায়াসে মহিলাকে অপমান করছেন। মেয়েটিকে মজা করছে সমাজমাধ্যমে। ছিঃ, নিন্দার ভাষা নেই। এই দলের নেত্রী এক মহিলা। আর দলের মুখপাত্ররা কী মন্তব্য করছে দেখুন। তৃণমূলের এই নোংরা মানসিকতার বিরুদ্ধে রাজ্যের মানুষ রাস্তায় নেবে প্রতিবাদ করবে”।






