হঠাৎ পাল্টি! ফিশফ্রাই, জলভরা সন্দেশেই মিটে গেল সব তিক্ততা, ‘তৃণমূল তো একটাই পরিবার’, সুদীপের বাড়ি থেকে ফিরে বললেন কুণাল

দূরত্ব বেড়েছিল অনেকটাই। প্রকাশ্যেই শানিয়েছিলেন তাঁকে। অভিমানের জেরে পদও ছেড়েছেন। কিন্তু শুধুমাত্র একটা নেমন্তন্ন, চায়ের আড্ডা, ব্যস্‌, তাতেই সব মান-অভিমান গলে জল। দার্জিলিং চা, ফিশফ্রাই, জলভরা সন্দেশ সব দিয়েই মিষ্টিমুখেই শেষ হল বৈঠক। গলল বরফ। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কুণাল ঘোষের উবাচ, “তৃণমূল একটাই পরিবার। কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে”।

বিগত কয়েকদিন ধরেই উত্তর কলকাতার তৃণমূল নেতৃত্বকে নিয়ে প্তবল ক্ষোভ জারি করেছেন কুণাল ঘোষ। জানা যায়, উত্তর কলকাতায় একটি সভায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাকা হলেও ডাক পান নি কুণাল। সেই নিয়ে বেশ অভিমান হয় তাঁর। সেদিন রাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করেছিলেন তিনি। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন। এই নিয়ে কোনও বাক্যব্যয় করেননি সাংসদ নিজে। এই দূরত্ব মেটাতে চায়ের আড্ডায় কুণালকে ডেকেছিলেন উত্তর কলকাতার সাংসদ। তাতেই মিটল তিক্ততা।

সুদীপের এই চায়ের আড্ডায় নিমন্ত্রণ প্রসঙ্গে কুণাল জনান,”সুদীপদা আমায় ফোন করেছিলেন। আজ চা খেতে ডেকেছেন।আমি যাব”। এরপর সোমবার সন্ধ্যেবেলা সেই চায়ের নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি যান কুণাল। সেখানেই কথাবার্তা চলে দুজনের। এদিন সুদীপ, নয়না, কুণাল ছাড়াও বেশ কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলর ছিলেন। এই বৈঠক শেষেই গলল বরফ।    

এদিন সুদীপের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কুণাল বলেন, “সুদীপদার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে যাতে কোনওরকম ভুল বোঝাবুঝি, কমিউনিকেশন গ্যাপ না থাকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরিবারের মধ্যে মান-অভিমান থাকে, ভুল বোঝাবুঝি থাকে, কিন্তু পরিবার ছেড়ে কেউ যায় না। যে বিষয়গুলি ছিল সেগুলি মেরামতি নিয়ে কথা হয়েছে”।

তবে উত্তর কলকাতার প্রার্থী নিয়ে ‘অন্য’ সুরেই কথা বলেন কুণাল। তাঁর কথায়, “১৯৯৮ সালে যে ১০ জন প্রার্থীর নাম মমতাদি বলেছিলেন তার মধ্যে নয়নার নাম ছিল। আমি মনে করিয়ে দিয়ে এলাম, উত্তর কলকাতার প্রথম প্রার্থী তো নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের হওয়া উচিত”।

এদিন তাপস রায়ের দল ছাড়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেই বিষয়ে কুণাল বলেন, “তাপস আমার দাদার মতো। ওঁকে মিস করব। অনুরোধ করব, অন্য দলে যাবেন না। কিছুদিন বিশ্রাম করুন”।  তাঁর আরও সংযোজন, “অন্য রাজনৈতিক মঞ্চে গেলে দুরত্ব আসে। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কে যেন রাজনীতির কালো মেঘ না আসে”।

আরও অন্যান্য খবর