আজ ২রা মে। আজ থেকে ঠিক একবছর আগে তৃতীয়বারের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। এই বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে তৃণমূলের তরফে নানান কর্মসূচি রয়েছে। আর এরই মধ্যে এক বিস্ফোরক দাবী করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
বেশ ভবিষ্যৎবাণী করে তিনি বলেই দিলেন, “২০৩৬ সাল পর্যন্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জ্যোতি বসুর রেকর্ড ভেঙে নজির গড়বেন তিনি। এরপর ২০৩৬ সালে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”।
আজ, সোমবার নিজের ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন কুণাল। সেই পোস্টে নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। তৃণমূল রাজ্যে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার নানান দিক খুঁটিয়ে আলোকপাত করেছেন তৃনমুল নেতা। সরকারের সাফল্যের খতিয়ান ব্যাখ্যা করেছেন। এর পাশাপাশি একুশেরন নির্বাচনের আগে দল ছেড়ে চলে যাওয়া নানান নেতা ও নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তাদের ফের দলে ফিরে আসা ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে নানান নেতাদের তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়েও এদিন নানান বার্তা দেন কুণাল।
এদিন নিজের এই পোস্টে তৃণমূলের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট তুলে ধরলেও, এর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টটি ছিল অভিষেককে রাজ্যের হবু মুখ্যমন্ত্রী বলার বিষয়টি। এর জন্য তিনি অভিষেককে আগাম শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।
তিনি লেখেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের এক সৈনিক হিসেবে বলতে পারি, ২০৩৬ সাল পর্যন্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন মমতাদি। আর সেই ২০৩৬ সালে তিনি অভিভাবকের মত উপস্থিত থাকবেন এমন অনুষ্ঠানে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেবেন অভিষেক। মুখ্যমন্ত্রিত্বে জ্যোতি বসুর রেকর্ড ভেঙে ভারতে নজির গড়বেন মমতাদি”। এর পাশাপাশি দিল্লি জয় নিয়েও আশাবাদী বেশ কুণাল। তাঁর কথায়, “যদি দিদিকে দিল্লির এবং দেশের দায়িত্ব নিতে হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরেকরকম তো হবেই”।
এদিন নিজের এই দীর্ঘ পোস্টে কুণাল লিখেছেন, “মনে রাখুন, বিজেপির শীর্ষ নেতাদের ডেইলি প্যাসেঞ্জারি, সব নখ দাঁত বার করা আক্রমণ, চার আনার বিজেপি কর্মীদের বারো আনা ঔদ্ধত, অসভ্যতাকে হারিয়ে জয়। মনে রাখুন, সিপিএম, কংগ্রেসকে শূন্যে নামিয়ে দিয়ে জয়। মনে রাখুন, কিছু সুবিধেবাদীর হঠাৎ তৃণমূল ছাড়ার বিশ্বাসঘাতকতা ও হুজুগের বিরুদ্ধে জয়। মনে রাখুন, দিদির নেতৃত্বে এবং অভিষেকের সেনাপতিত্বে তৃণমূল কর্মীদের জেদের আর আনুগত্যের লড়াইতে জয়। মনে রাখুন, একদিকে সরকারের কাজ এবং সঙ্গে সাংগঠনিক এক দক্ষ পরিচালনপদ্ধতির মধ্যে দিয়ে জয়। এই বিপুল জয়কে, মানুষের আস্থা ও আমাদের মত সাধারণ সৈনিকদের মানসিক তৃপ্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আত্মতুষ্টির জায়গা নেই। আত্মসমালোচনার জায়গায় গুরুত্ব দিতে হবে। দল বড়, সরকার বড়, আরও জয়, আরও দায়িত্ব, আরও কাজ, কর্মযজ্ঞ চলছে । ৯৯% কাজ ভালো। ১% ভুল থাকলে ব্যবস্থা হচ্ছে এবং হবে। যে কর্মী, সমর্থক, সংগঠকরা ২০২১-এর চরম ঝুঁকির যুদ্ধে জান কবুল লড়াই দিয়েছেন, তাঁদের সম্মান, মর্যাদা, অধিকারবোধ সত্যিই স্বতন্ত্র। দলে রাজনৈতিক সচেতনতাটাকেই অগ্রাধিকার দিন। দেওয়া হয়। ক্ষমতায় থাকার জন্য মুষ্টিমেয়র মধ্যে যদি ব্যক্তিসমীকরণের প্রশাসনিক লাভক্ষতির হিসেব অগ্রাধিকার পায়, তবে তা বর্জ্যনীয়। আর সতর্ক থাকুন, চারপাশে কারা আসছে, তারা কারা, কী চায়। এই সতর্কতার ছাঁকনি যে কোনও ক্ষমতাসীন দলে জরুরি, তৃণমূলেও জরুরি এবং তৃণমূল নজর রাখছে বলেই বারবার তিনবার মানুষ আশীর্বাদ করছেন”।
কুণালের সংযোজন, “মাথার উপর দিদি, লিডার, দলের প্রাণ, মুখ, শেষ কথা। রয়েছেন তরুণতুর্কী, ক্যাপ্টেন অভিষেক। এবং রয়েছেন নেতা, কর্মী, সমর্থক, দরদীর তৃণমূল পরিবার। বিরোধীরা হাত মিলিয়ে চক্রান্ত চালাচ্ছে। রুখতে হবে”।






