মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার খেসারত দিতে হয়েছে কংগ্রেস নেতা তথা হাইকোর্টের আইনজীবী কৌস্তভ বাগচিকে। মাঝরাতে পুলিশ অভিযান চালায় তাঁর বাড়িতে। প্রায় ৫ ঘণ্টা তল্লাশির পর গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে কৌস্তভের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা নিয়ে গর্জে উঠেছে কংগ্রেস-সহ নানান বিরোধী দলগুলিও। এবার এই গ্রেফতারি নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে এই গ্রেফতারি নিয়ে কথা বলেন কুণাল। এটিকে নিজের ব্যক্তিগত মতামত বলেই প্রকাশ করেছেন কুণাল। তাঁর কথায়, “কৌস্তুভ অন্যায় করেছে। মাতৃসমা মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্কে ওই ধরণের চরম কুৎসা বরদাস্ত করা যায় না। আমাদের ছাত্রযুবরা কৌস্তভের অসভ্যতা বুঝে নিতে পারত”।
প্রায় সমস্ত বিরোধী দলই কৌস্তভের গ্রেফতারির বিরোধিতা শুরু করেছে। এসবের মধ্যেই কুণালের মন্তব্য, কৌস্তভের গ্রেফতারি বিরোধীদের রাজনীতির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। শুধু তাই নয়, তাঁর আরও দাবী, এই গ্রেফতারির জেরে কৌস্তভ তথা বিরোধী দল মানুষের সহানুভূতি পাবে।
পোস্টের শেষে কুণালের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি কৌস্তভের গ্রেফতারির বিরোধিতা করছি। এতে ওঁর এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক লাভ হবে। কৌস্তুভ অন্যায় করেছে। ওঁর অসৌজন্যের কথার প্রবণতা আছেই। কিন্তু তার জবাব রাজনৈতিকভাবে আমাদের ছাত্র যুবরা দিতে পারত। পুলিশি অভিযান ঠিক হল না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে”। কুণালের কথায়, এই গ্রেফতারির জেরে আখেরে কৌস্তভেরই প্রচার বাড়বে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সজল ঘোষের উদাহরণও দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবী, পুলিশ সজল ঘোষের দরজা ভেঙেছিল বলেই নাকি প্রচার পেয়েছিলেন বিজেপি নেতা। এই প্রসঙ্গে সজল ঘোষ বলেন, “মাঝে মাঝে বিবেক জাগ্রত হয়”। তবে সেই ঘটনায় যে কুণাল ঘোষ বিরোধিতা করেছিলেন, তা স্বীকার করেছেন সজল ঘোষ।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনেকেই বলেন, রাজনৈতিক বিষয়কে রাজনীতি দিয়ে মোকাবিলা না করে পুলিশকে ব্যবহার করে তৃণমূল। এটা আসলে ক্ষমতার আস্ফালন। কুণাল তৃণমূলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের লোক হিসাবেই পরিচিত। তাঁর এমন পুলিশি অভিযান নিয়ে মন্তব্য অন্য দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছেন অনেকে।






