Mamata Banerjee : ‘আমার বার্থ সার্টিফিকেট নেই’ মঞ্চে স্বীকার করলেন মমতা, পরিযায়ী শ্রমিক ও ভাষা ইস্যুতে সরাসরি কি প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

দক্ষিণ কলকাতার বেহালায় স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতটি ছিল এক ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক মিলনের। বিভিন্ন নাগরিক ও অনুগত কর্মী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু সবচেয়ে বেশি নজর ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের ওপর। তিনি শুধু স্বাধীনতার ঐতিহাসিক স্মরণেই সীমাবদ্ধ থাকলেন না, বরং বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, ভাষা ও পরিচয়পত্র সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোও তুলে ধরলেন।

মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, ‘আমার বার্থ সার্টিফিকেট নেই, ওপেন বলছি।’ তিনি বলেন, যাদের জন্ম ২০০২–০৩ সালের সময় হয়েছে, অনেকেরই জন্ম বাড়িতে হওয়ায় জন্ম সনদ পাওয়া যায়নি। মমতা উল্লেখ করেন, যারা জন্ম সনদ চাওয়ার কথা বলেন, তাদের নিজস্ব নেতাদেরও জিজ্ঞাসা করা উচিত, “আপনাদের মা-বাবার জন্ম সার্টিফিকেট আছে তো?” এই বক্তব্যে স্পষ্ট হলো, মমতা সাধারণ মানুষের সমস্যার সঙ্গে নিজেকেও যুক্ত করছেন।

মঞ্চে মমতার নিশানা ছিল শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়। তিনি ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের পরিকল্পনার কথাও উল্লিখিত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্যের ২২ লক্ষ মানুষ বাইরে কাজ করছে, সেখানে বাইরের রাজ্যের দেড় কোটি মানুষ এখানে আছেন। আমরা যদি তাঁদের আশ্রয় দিতে পারি, তাহলে আমাদের লোককে কেন সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না?” পাশাপাশি ভাষা বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলা আদতে কোনও ভাষা নয়’—এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি অফিসিয়াল প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় লড়াই অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

মুখ্যমন্ত্রী ভিন রাজ্যে হেনস্থার শিকার বাংলার শ্রমিকদের জন্য পৃথক প্রকল্পের ভাবনাও তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, যে সরকার তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

আরও পড়ুনঃ Weather: রাজ্যজুড়ে টানা বৃষ্টি, স্বাধীনতা দিবসেও ভিজবে উত্তর-দক্ষিণবঙ্গ

মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে, আগামী দিনেও তিনি ভাষা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় থাকবেন। নিজের জন্ম সনদ না থাকাকে স্বীকার করে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার বার্তা দেন, এবং একই সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান নেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতা দিবসের উৎসবকে শুধু স্মরণে নয়, বর্তমান সময়ের ন্যায়বিচার ও লড়াইয়ের প্রতীকেও পরিণত করেছেন।

আরও অন্যান্য খবর