ভোট প্রচারে নেমে এবার বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, শুক্রবার ভবানীপুর ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে উপনির্বাচনের প্রচারে যান তিনি। এদিন তাঁর কথার ভাঁজে উঠে আসে বিজেপি প্রার্থী মানস সাহার মৃতদেহ নিয়ে বিজেপি নেতাদের তাঁর বাড়ির সামনে চলে যাওয়া থেকে শুরু করে বাংলায় বৃষ্টির জেরে জল জমার কারণের প্রসঙ্গ।
মনে করা হচ্ছিল, এদিন হয়ত তিনি এই জল জমে থাকার জন্য কোনও বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কোনও কথা বলবেন বা দুঃখপ্রকাশ করবেন। কিন্তু সেসব কিছুই শোনা গেল না তাঁর গলায়। বদলে তিনি বললেন বিজেপি প্রার্থী মানস সাহার মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ার কথা।
বিজেপি প্রার্থী মানস সাহার মৃত্যুর পর তাঁর মৃতদেহ নিয়ে গতকাল, বৃহস্পতিবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও অন্যান্য বিজেপি নেতারা পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে। পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ায় বাঁধে বচসা, হাতাহাতি।
এদিন এই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “ওদের কত বড় ক্ষমতা বুঝুন, আমার বাড়ির কাছে ডেডবডি নিয়ে ঢুকছে। ওদের একটা করে কান মুলে দিলেই পালিয়া যাবে। কোনও ক্ষমতাই নেই। শুধু মুখে বড়বড় ভাষণ”। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “তোমার বাড়ির সামনে যদি কুকুরের ডেডবডি পাঠিয়ে দিই। পচা কুকুর তোমার বাড়ির সামনে ফেলে আসব। গন্ধে দশদিন খেতে পারবে না”।
এদিন বাংলায় ভাদ্র এবং আশ্বিন মাস জুড়ে অতি বর্ষণ এবং সেই সঙ্গে জমা জলের যন্ত্রণা নিয়েও কথা বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর বক্তব্য, “এটা তো ভোটের সময় নয়। বর্ষার সময়। কিন্তু আপনাদের অসময়ে বিরক্ত করছি। প্রায় ৪ মাস ধরে বর্ষা হচ্ছে। সাড়ে তিন লক্ষ পুকুর কেটেও জল ধরে রাখা যাচ্ছে না। আমরা অনেক পাম্পিং স্টেশন তৈরি করে দিয়েছি। আজ সেটা আমরা করতে দেই না। দু-একটা জায়গা ছাড়া”।
রাজ্যের মানুষকে বছরের পর বছর এভাবে জল যন্ত্রণা কেন ভোগ করতে হচ্ছে? এর জবাবে মমতা বলেন, “কিন্তু ব্যাপারটা কী জানেন তো, বাংলাটা হচ্ছে একটা নৌকার মতো। ঝাড়খণ্ডে, বিহারে বেশি বৃষ্টি হলে ডিভিসি জল ছেড়ে দেয় বাংলায়। সল্টলেকটা আরও বড় নৌকা। ওখানে যখন বাড়ি তৈরি হয়েছিল, নীচু জমি ভরাট করেনি। তাই ওখানে জল জমে গেলে বেরোতে সময় লাগে।”
এদিন রাজ্যবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ করেন, “আমি সবাইকে আবেদন করব, বর্ষা যখন হয়, দয়া করে ইলেক্ট্রিক পোলে হাত দিতে যাবেন না। এসি, টিভি বন্ধ রাখবেন, তাহলে বিপর্যয় হয় না। ঘরের বাইরে কম বেরোবেন। বজ্রাঘাত আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছে। আগে বিদ্যুতের অনেকগুলো পকেট ছিল, এখন আর ওসব মানছে না। এগুলো সবই গ্লোবাই ওয়ার্মিংয়ের ফল”।





