সাগরদিঘিতে হারের জের! মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে মরিয়া মমতা, দ্রুত সংখ্যালঘুদের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দিলেন সিদ্দিকুল্লা-ফিরহাদদের

সাগরদিঘি উপনির্বাচনে (Sagardighi by-election) ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। সেই কারণে এবার সংখ্যালঘু এলাকায় (minority area) বিশেষ নজর দিতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হল সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, সাবিনা ইয়াসমিন, জাকির হুসেন, ফিরহাদ হাকিম ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। আজ, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক (cabinet meeting) করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই বৈঠক থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

সূত্রের খবর, এদিন বৈঠকের পর উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলেন মমতা। সাগরদিঘি শব্দটা একবারও উচ্চারণ না করলেও বেশ উদ্বেগের সুর ছিল তাঁর কণ্ঠে, এমনটাই সূত্রের খবর। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, “সংখ্যালঘু ভোট আমাদের থেকে সরে যায়নি। আমরা ১২ বছরে সংখ্যালঘুদের জন্য অনেক কাজ করেছি। তাহলে এমন একটা ফলাফল হল কেন”? সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, সাবিনা ইয়াসমিন, জাকির হুসেন, ফিরহাদ হাকিম ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে এই বিষয়টি দেখতে বলেন তিনি।

মমতা তাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা সবাই সিনিয়র। আপনারা দেখুন কোথাও কোনও ক্ষোভ রয়েছে কী না। রাজ্যজুড়েই বিষয়টা দেখুন”। রাজ্যজুড়ে পর্যালোচনা করে মমতাকে রিপোর্ট দেবেন তারা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাগরদিঘি উপনির্বাচনের হার থেকে এবার শিক্ষা নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক বাঁচাতে মমতা। সেই কারণেই সংখ্যালঘুদের সমস্যা সমাধানে এতটা জোর দিচ্ছেন তিনি।

জানা গিয়েছে, এই মন্ত্রিসভা বৈঠকে মাদ্রাসা স্কুলগুলিতে শূন্যপদ পূরণের কথাও বলা হয়েছে। বলে রাখি, গতকাল, রবিবারই এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন মাদ্রাসা স্কুলগুলিতে কোনও শিক্ষক নিয়োগ হয়নি।

মন্ত্রিসভার এই বৈঠক প্রসঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “তৃণমূল সে অর্থে কোনও রাজনৈতিক দল নয়। বাংলায় যে সরকারটা রয়েছে, সেটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার নয়, তৃণমূল সরকার। মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোনও ভোটের জয় পরাজয় নিয়ে কি আলোচনা হয়, তাও আবার সংখ্যালঘু সংখ্যাগুরুর বিভাজন তৈরি হয়, এটা ভারতে নজিরবিহীন ঘটনা। তৃণমূল মানুষকে সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু হিসাবে ভাগ করে, তাই মৌলবাদ বাড়ছে”।

RELATED Articles