ড্যামেজ কন্ট্রোলে আসরে মুখ্যমন্ত্রী, ম‌ইদুলের পরিবারকে দেওয়া হবে চাকরি, আর্থিক সাহায্য! সুজন চক্রবর্তীকে ফোন করে আশ্বাস মমতার

পুলিশের প্রচণ্ড মারে মইদুল ইসলাম মিদ্যা নামে মৃত ওই বাম কর্মীর শরীরের একাধিক মাংসপেশিতে গুরুতর আঘাত লাগে। পেট ও পিঠ ভয়ংকর ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়। আঘাত লাগে কিডনিতে। বন্ধ হয়ে যায় কিডনির কাজ। যার ফলে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে আজ মৃত্যু হয় বাঁকুড়ার কোতুলপুরের বাসিন্দা মইদুলের। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বাম নেতৃত্ব। মানবাধিকার কমিশনে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তাঁরা।

এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “মৃত্যু নয়, এটা খুন। সরকার ইতরতার সীমা ছাড়িয়েছে। এই বাচ্চা ছেলেটাকে কীভাবে মেরেছে। সরকার ভয় পেয়েছে। তার বুকে, পিঠে প্রচণ্ড আঘাত করেছে পুলিশ। চিকিৎসক চাপের মুখে সবটা বলতে পারছেন না।”

এরপরই আসরে নেমেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মৃত্যুকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে মমতা জানিয়েছেন, তিনি সুজন চক্রবর্তীকে ফোন করেছিলেন। এবং সবরকমভাবে মইদুলের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে সেই বামেদের বিরুদ্ধে কিছু প্রশ্নও তুলে দিয়েছেন মমতা। এদিন তিনি বলেন, “সব মৃত্যুই দুঃখজনক। সুজন চক্রবর্তীকে আমি সকালে ফোন করেছিলাম। বলেছি এটা দুঃখজনক। কীভাবে মারা গেল সেটা ময়নাতদন্তের পর বোঝা যাবে। তারা পুলিশকে কোনও অভিযোগ জানায়নি। তাঁদের বাড়ির লোককেও জানানো হয়নি দু’দিন আগে।” তবে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এর তিনদিন আগে যে ছেলেটা ভর্তি হল তাঁদের বাড়ির লোককে জানানো হবে না? পুলিশকে জানানো হবে না?”

এরপরই আশ্বাসের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “আমি সুজন চক্রবর্তীকে বলেছি। যেভাবেই মারা যাক, ওঁদের গরিব পরিবার। আমি আর্থিক সাহায্য বা পরিবারকে চাকরি দিতে তৈরি।” একইসঙ্গে এই মৃত্যুর প্রকৃত তদন্ত দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে, আজ‌ই নিজেদের কর্মীর মৃত্যুর বিরুদ্ধে সরব হয়ে ইতিমধ্যেই পথে নেমেছেন ডিওয়াইএফআই কর্মীরা। সোমবার বিকেলে ডিওয়াইএফআই দফতরে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাধে দলীয় কর্মীদের। এই নিয়ে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী দাবি করেছেন, “পুলিশের নৃশংস আক্রমণে খুন হয়েছে মইদুল ইসলাম মিদ্যা। নারকীয় এই ঘটনায় নিন্দার কোনও ভাষা নেই। ছাত্র যুবদের ঘিরে ধরে যে ভাবে সে দিন মারা হল জালিয়ানওয়ালাবাগের স্মৃতি উস্কে দেয়। এটা কী চলছে বাংলায়? যে ভাবে সে দিন পুলিশ ওকে ঘিরে ধরে মারল এটা সাধারণ মৃত্যু নয়, খুন। নবান্ন অভিযানে শহিদ মইদুল। এ তো সুদীপ্ত গুপ্তর মৃত্যু মনে করাচ্ছে। কত নৃশংস হতে পারে পুলিশ তা বোঝা যাচ্ছে। কত লাশ চাই সরকারের যে একটা জলজ্যান্ত ছেলেকে লাশ বানিয়ে দিল!”

মইদুলের মৃত্যুর প্রতিবাদে এদিন আন্দোলনের ডাক দেয় বামেরা। মৌলালিতে পথ অবরোধ করে বামেরা। তাতে বাধা দিতে গেলে ধ্বস্তাধস্তি শুরু হয় পুলিশ ও বাম নেতা-কর্মীদের মধ্যে। পুলিশকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে জানা গিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে কাছের এক রেস্তোরাঁতে গিয়ে আশ্রয় নেয় পুলিশ। পুলিশ ও বামেদের সংঘর্ষে উর্দি ছিঁড়ে যায় পুলিশের। রক্তাক্ত হন অন ডিউটি পুলিশ। বাম ছাত্র সংগঠনের দাবী, পুলিশ তাদের কর্মীদের উদ্দেশ্যে কটূক্তি করায় উত্তেজনা ছড়ায়।

RELATED Articles