একপ্রকার নাম না করেই ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ছবিটি না দেখার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল, বুধবার বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বক্তৃতায় একথাই বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেউ সিনেমা দেখতে যাবেন না। কোনও ভাইরাল ভিডিয়ো দেখতে যাবেন না। সিনেমায় যা দেখায় সব সত্যি নয়। সেগুলো সব বিশ্বাস করবেন না। ওগুলো সব বানানো। সিনেমা সিনেমাই। সিনেমা কিন্তু সত্যি হবে না”।
তিনি আরও বলেন, “ওদের অনেক টাকা। টাকা খরচ করে ওসব বানায়। তাই বানানো জিনিসে বিশ্বাস করবেন না। দেখবেন না”।
বলে রাখি, গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে বিবেক অগ্নিহোত্রীর ছবি ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর নির্যাতনের কাহিনীর প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে এই ছবি। মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে এই ছবি। ১৫ কোটি টাকায় নির্মিত ছবি মাত্র পাঁচদিনেই ৬০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে।
গত সোমবার, বিধানসভা অধিবেশনের শেষে বিজেপির পরিষদীয় দোলের সদস্যদের নিয়ে এই ছবি দেখতে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই ছবির টিকিট করমুক্ত করা হয়েছে। অসম সরকারের তরফে এই ছবি দেখার জন্য সরকারি কর্মীদের অর্ধেক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গত শনিবার প্রযোজক অভিষেক অগ্রবাল, পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী এবং অভিনেতা পল্লবী যোশী-সহ ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ছবির গোটা টিম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাৎ পর্বে এই ছবির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন অনুপম খের, মিঠুন চক্রবর্তী, দর্শন কুমার ও পল্লবী যোশী। ছবির প্রযোজক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ছবি পোস্ট করেন নেটমাধ্যমে।
এরপর টুইট করে তিনি লেখেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খুবই আপ্লুত। দ্য কাশ্মীর ফাইলস ছবি সম্পর্কে তাঁর কথা এবং প্রশংসা আরও বিশেষ করে তুলেছিল গোটা বিষয়টিকে। আমরা কেবলই একটা ছবি প্রযোজনা করার জন্য প্রযোজক হইনি। ধন্যবাদ মোদীজি”।
পাল্টা রিটুইট করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “তোমাকে নিয়ে গর্ব হয় অভিষেক অগ্রবাল। তুমি ভারতের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সত্যটা প্রযোজনা করার সাহস দেখিয়েছ। আমেরিকায় ‘কাশ্মীর ফাইলস’-এর স্ক্রিনিং প্রমাণ করে যে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিশ্বের নজর বদলাচ্ছে”।





