প্রয়োজন পড়লে দেশের স্বার্থে তিনি যুদ্ধে যেতেও রাজি, গতকাল, বুধবার বারাণসী যাওয়ার আগে এমন কথাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিগত এক সপ্তাহ ধরেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে নানান দেশে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভারতের প্রচুর পড়ুয়া ইউক্রেনে গিয়েছেন পড়াশোনার জন্য। এর মধ্যে দুই দেশের সংঘাতের জেরে বলি হয়েছেন এক ভারতীয় পড়ুয়া। ইউক্রেনে থাকা ভারতীয়দের দেশে ফেরাতে মরিয়া ভারত সরকার।
এর জন্য ‘অপারেশন গঙ্গা’ নামের অভিযান শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নানান দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথাবার্তা বলছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘অপারেশন গঙ্গা’ নামের এই অভিযানে দূত হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে চার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, ভিকে সিং ও কিরণ রিজিজুকে। এই পরিস্থিতি নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বেগও কম নয়। ইতিমধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে দেশের স্বার্থে তিনি তাঁর পাশে রয়েছেন।
গতকাল, বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে প্রয়োজনে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে যেতেও রাজি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যদি আমাকে বলা হয় মানুষকে বাঁচাতে তুমি যুদ্ধে যাও, আমি যুদ্ধে যাওয়ার জন্যও তৈরি। দেশের স্বার্থে, মানুষের জন্য আমি সবসময় তৈরি। আমাদের দেশে যে সংখ্যক মহিলা আছেন তাঁদের সবাইকে যদি তৈরি করা হয় তা হলে দেশকে বাঁচাতে অল মহিলা ইজ রেডি টু ফাইট দ্য ব্যাটেল”।
এর আগে মমতা বলেছেন, “আমি কোনও দেশের পক্ষে বা বিপক্ষে কথা বলতে চাই না। আমি শুধু চাই বিশ্ব শান্তি। ভারত সবসময় শান্তির পক্ষে দাঁড়িয়েছে এবং বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি চিঠি লিখে শান্তির পথ প্রশস্ত করার অনুরোধ জানিয়েছি। আমি বলেছি, ভারত নেতৃত্ব দিয়ে এই যুদ্ধের অবসান করুক। ভারত পারে বিশ্বে শান্তির ব্যবস্থা করতে। ভারত এই পথ আগে দেখিয়েছে। ভারতের মনীষীরা শান্তির প্রবর্তক। এতদিন করোনা যুদ্ধ দেখেছে। এবার আর যুদ্ধ নয়। মানুষ আর যুদ্ধ চায় না”।
আর গতকালও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি যুদ্ধের পক্ষে নই, শান্তির পক্ষে। কোনও দেশের বিরুদ্ধে নই, সব দেশের পক্ষে। কিন্তু একটা কোভিড যুদ্ধ হয়ে গেল। আবার যদি একটা যুদ্ধ হয়ে সব ধ্বংস হয়ে যায় তার সবটাই চোকাতে হবে সাধারণ মানুষকে। এখনও আমরা মনে করি ভারতবর্ষের সেই শক্তি আছে। ভারত শান্তির পথে সবাইকে ফিরিয়ে আনতে পারে”।





