ঈদের(Eid) সকালে শহরজুড়ে খুশির আবহ। রেড রোডে নমাজ পাঠের পর একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মানুষ। নতুন পোশাকে সেজে ছোটো থেকে বড় সকলেই মেতে উঠেছেন উৎসবে। তবে ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়, সম্পর্কের উষ্ণতা ভাগ করে নেওয়ারও সময়। এই বিশেষ দিনে প্রতিবারই সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
কলকাতার পার্ক সার্কাসের একটি বাড়ি ইদের দিন একটু অন্যরকম হয়ে ওঠে। সেই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানেই এক সময় থাকতেন রিজওয়ানুর রহমান। ঈদের দিনে সেই বাড়িতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানো যেন রীতি হয়ে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রীর। শুধু রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ নয়, এর পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত সংযোগও।
প্রতি বছরের মতো এবারও রেড রোডে নমাজ পাঠে অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানানোর পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে পার্ক সার্কাসে পৌঁছন মমতা। লাল মসজিদের সামনে গাড়ি থেকে নেমে তিনি হেঁটে যান সাদা মসজিদ পর্যন্ত। রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের দিকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর সোজা রিজওয়ানুরের বাড়িতে পৌঁছে তাঁর স্মৃতিতে তৈরি বেদিতে মাল্যদান করেন মুখ্যমন্ত্রী।
রিজওয়ানুরের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন তিনি। তাঁদের খোঁজখবর নেন। তাঁর দাদা রুকবানুর বর্তমানে চাপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হলেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক শুধুই রাজনৈতিক নয়, বরং দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বন্ধন রয়েছে। প্রতি বছর ঈদের দিন সেই সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা যায়।
আরও পড়ুনঃ Weather update: গরমের দাপটে দমবন্ধ অবস্থা! ঈদের খুশিতেও অস্বস্তি, টানা পাঁচদিন নেই বৃষ্টি!
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যু রাজ্যের রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলেছিল। ভালোবাসার সম্পর্ক কীভাবে এক তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, সেই ঘটনার সাক্ষী ছিল গোটা রাজ্য। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর পরিবারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা এখনও অটুট। এবারও সেই বন্ধনের নিদর্শন দেখা গেল ঈদের সকালে।






