শিক্ষা ব্যবস্থা সমাজের মূল ভিত্তিগুলির মধ্যে অন্যতম। একজন শিক্ষার্থী যখন কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষায় বসেন, তখন তার স্বপ্ন থাকে যোগ্যতার ভিত্তিতে সঠিক মূল্যায়ন পাওয়ার। কিন্তু যখন সেই মূল্যায়নের পদ্ধতিতেই গলদ দেখা দেয়, তখন তা শুধু একজন পরীক্ষার্থীর নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ওপরই প্রভাব ফেলে। মেধার মূল্য যদি অর্থ বা প্রভাবের কাছে হার মানে, তাহলে সেটি গোটা সমাজের জন্যই অশনিসংকেত।
সম্প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগে এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে, যা শিক্ষাপ্রেমী মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষার পর প্রাপ্ত নম্বর ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত যোগ্যরা পিছিয়ে পড়েন এবং অন্যরা সুযোগ পান। স্বাভাবিকভাবেই এমন ঘটনায় ন্যায়বিচারের প্রশ্ন উঠছে। পরীক্ষার্থীরা বুঝতেই পারছেন না, কীভাবে তাদের দেওয়া সঠিক উত্তরগুলি ভুল হয়ে যাচ্ছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগে OMR শিটে কারচুপি করা হয়েছে। সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (CFSL)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের দেওয়া সঠিক উত্তরপত্রের ওপর পরবর্তী সময়ে নতুন করে দাগ লাগানো হয়েছে। এতে কম্পিউটার সেই উত্তরকে ভুল বলে ধরে নিচ্ছে এবং নম্বর কেটে নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এটি পরিকল্পিত চক্রান্ত, যাতে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হন।
এটি প্রথমবার ঘটেনি। এর আগে রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগেও ঠিক এমন অভিযোগ উঠেছিল। সেখানেও দেখা গিয়েছিল, OMR শিট স্ক্যানিংয়ের সময় নম্বর বদল করে অযোগ্যদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেই মামলার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি, এর মধ্যেই মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee on Eid: রিজওয়ানুরের বাড়িতে মমতার উপস্থিতি, রাজনীতির নতুন সমীকরণ নাকি সেই পুরনো প্রতিশ্রুতি?
এখন প্রশ্ন উঠছে, এই দুর্নীতির পেছনে কারা রয়েছে? তদন্তকারীরা কি সত্যিই প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে পারবেন? পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এই কারচুপি চালিয়ে যাচ্ছে। হাইকোর্টে জমা দেওয়া এক পরীক্ষার্থীর চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “আমি অপশন ‘বি’তে দাগ দিয়েছিলাম। কিন্তু স্ক্যানের সময় দেখা গেল, অপশন ‘সি’-তেও দাগ রয়েছে, যা আমি দিইনি।” বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।





