‘দেশটা সবার নিজের’, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে গান লিখে ঐক্য ও সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

আজ দেশের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবস। আজকের দিনে একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান যে দেশের সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন, তখনই অন্যদিকে আবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে সমন্বয়ের বার্তা দিলেন দেশবাসীকে।

এদিন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে একটি গান লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের ফেসবুক পেজে সেই গানের লিঙ্কও শেয়ার করেছেন তিনি। গানটির প্রথম চার লাইন লেখেন তিনি। এই চার লাইন হল – “এই ধরণীর মাটির বাঁধন/ বাঁধুক জোরে মোদের/ সোনার চেয়েও যে খাঁটি/ দেশটা সবার নিজের”।

গানের এই চার লাইনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন যে ভারতবর্ষ কারও একার নয়, ভারতবর্ষ সকলের। ফেসবুকে এদিন মমতা লেখেন, “ভারতবর্ষের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসে দেশমাতৃকাকে আমার প্রণাম জানাই। আজকের এই শুভদিনে আমার রচনা ও ভাবনায় একটি গান রইল সবার জন্য। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ইন্দ্রনীল সেন, মনোময় ভট্টাচার্য, তৃষা পাড়ুই এবং দেবজ্যোতি বোস। দেশবাসীকে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ঐক্য, সম্প্রীতি ও সর্বধর্ম সমন্বয়ের পরম্পরা এই দেশের গৌরব বৃদ্ধি করেছে। নাগরিক হিসেবে সেই ঐতিহ্য অটুট রাখাই হোক আমাদের আজকের শপথ”।

আরও পড়ুন- চালু হবে ৭৫টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, স্বাধীনতা দিবসে ১০০ লক্ষ কোটির গতিশক্তি প্রকল্পের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রীর এই গানের লেখায় একদিকে যেমন দেশ সকলের এই বার্তা উঠে এসেছে, তেমনিই আবার অন্যদিকে সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তাও উঠে এসেছে। অর্থাৎ বিবিধের মাঝে মিলনও মহান, এই বার্তাই প্রেরণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর এই গানের লাইন যে বিজেপি সরকারের পক্ষে একপ্রকার বার্তা, এমনটাও মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ বিজেপি সবসময় হিন্দুত্ববাদ নিয়ে কথা বলে। সেখানে দাঁড়িয়ে মমতার এই গানে উঠে এল সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা, ‌যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

এদিন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে রেড রোডে অনুষ্ঠান রয়েছে। করোনা বিধিনিষেধ মেনেই অনুষ্ঠানে অনেক কাটছাঁট করা হয়েছে। এইনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। একুশের নির্বাচনে তৃতীয়বার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর এখন তৃণমূলের লক্ষ্য দিল্লির মসনদ। এদিকে আবার মমতাকেই বেশিরভাগ মানুষ প্রধান বিরোধী মুখ হিসেবে দেখছেন। এই কারণে আজ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী রেড রোডে দাঁড়িয়ে কী বার্তা দেন, সেদিকেই সকলের নজর রয়েছে।

RELATED Articles