লোকসভা নির্বাচনের আগে ফের ধাক্কা শাসক শিবিরে। এর আগে ঘাটালের তিন প্রশাসনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তারকা-সাংসদ দেব। তা নিয়ে চর্চা কম হয়নি। এবার দেবের পথেই হাঁটলেন তৃণমূলের আরও এক তারকা-সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। তিনিও ইস্তফা দিলেন সংগঠনের পদ থেকে। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠিও লিখেছেন তিনি।
কেন এই ইস্তফা?
জানা গিয়েছে, ভাঙড়ের নলমুড়ি ব্লক হাসপাতাল ও জিরানগাছা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মিমি চক্রবর্তী। নিজের ইস্তফা দেওয়ার কথা চিঠি লিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছেন মিমি। চিঠিতে তাঁর অভিযোগ, যাদবপুর লোকসভা এলাকার দলীয় নেতা কর্মীদের একাংশ তাঁকে বারবার নানাভাবে অপমান করেছে। কখনও ফোন করে তো আবার কখনও মঞ্চে অপমান করা হয়েছে। তিনি এতদিন কিছু বলেন নি। কিন্তু এবার আর এই অপমান নিতে পারছেন না তিনি। খুব মানসিক চাপ হচ্ছে তাঁর, তাই এই ইস্তফা।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট পেয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন মিমি চক্রবর্তী। যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হন তিনি। কিন্তু নিজের সংসদীয় এলাকায় বিশেষ দেখা যায় না তাঁকে। এই নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ তো রয়েছেই। ফের মিমিকে লোকসভা নির্বাচনের টিকিট দেওয়া হবে কী না, বা তিনি নিজে সাংসদ প্রার্থী হতে চান কী না, তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা। এসবের মাঝেই সংগঠনের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মিমি।
এই কিছুদিন আগে ঘাটালের তিন প্রশাসনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন দেব। ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান, ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি ও বীরসিংহ উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এরপরই রাজনীতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানান জল্পনা শুরু হয়।
এরই মধ্যে আবার লোকসভা নির্বাচনের আগে সংসদে শেষ অধিবেশনে দেব জানিয়েছিলেন যে এদিনই তাঁর শেষ দিন ছিল সংসদে। ফলে তাঁর দলে থাকা নিয়েও নানান গুঞ্জন শুরু হয়। এবার মিমিও সংগঠনের পদ ছাড়লেন। তিনিও কী তাহলে দেবের পথেই চলতে চাইছেন? উঠছে প্রশ্ন।
তবে দেবকে নিয়ে জল্পনার অবসান মোটামুটি ঘটেছে। গত শনিবার ক্যামাক স্ট্রীটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এরপর কালীঘাটে গিয়ে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও। ফলে জট কাটে। শোনা যায়, দেবই হবেন ঘাটালের প্রার্থী। তবে এবার মিমি চক্রবর্তীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, এখন সেটাই দেখার।






