ভারত এক ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ। এই দেশে বাস করেন নানান ধর্মের মানুষ। এক ধর্মের মানুষের উৎসবে সামিল হতে দেখা যায় অন্য ধর্মের মানুষদেরও। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অশান্তি দেখা গেলেও সম্প্রীতির নজির কিন্তু কম নেই আমাদের ভারতবর্ষে। ফের তেমনই এক সম্প্রীতি দেখা গেল এই বঙ্গেই। এক হিন্দু বৃদ্ধের মৃ’ত্যুতে তাঁকে কাঁধ দিল মুসলিম প্রতিবেশীরা। এমনকি, তারা শ্মশানে গিয়ে শেষকৃত্যও করে বৃদ্ধের।
কোথায় ঘটল এমন সম্প্রীতি?
ঘটনাটি ঘটেছে কাটোয়ার সিঙ্গি গ্রাম পঞ্চায়েতের শিমুলগাছি গ্রামে। ওই গ্রামের বাসিন্দা গণেশ হাজরা দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। গতকাল, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যু হয় তাঁর। এরপর ওই বৃদ্ধের মুসলিম প্রতিবেশীরাই তাঁর শেষকৃত্যের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। মৃ’ত’দে’হে কাঁধ দেওয়া থেকে শুরু করে পূর্বস্থলীর পাটুলি দামপাল শ্মশান ঘাটে শেষকৃত্য সম্পন্ন পর্যন্ত, সবটাই করলেন তারা।
জানা গিয়েছে, গণেশ হাজরার ওই গ্রামে তাঁর পরিবার ছাড়া আর কোনও হিন্দু পরিবার নেই। বাকি সকলেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। কিন্তু মানবিকতার পথে কখনওই বাধা হয়ে দাঁড়ায় নি ধর্ম। বৃদ্ধের মৃ’ত্যুর পর মুসলিম প্রতিবেশীরাই খাটিয়া এনে মৃ’ত’দে’হ বয়ে নিয়ে যান শ্মশানে।
জানা গিয়েছে, মৃ’ত গণেশ হাজরার ছেলে নিখোঁজ। তিন মেয়ে রয়েছে তাঁর। তিনজনেরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বয়সের কারণে তেমন কাজকর্ম করতে পারতেন না। মুসলিম প্রতিবেশীরাই তাঁর দেখাশোনা করতেন বলে খবর। তারাই তাঁকে খাবার, টাকা দিতেন।
মৃ’ত গণেশ হাজরার মেয়ে চুমকি হাজরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র তাঁর বাবা-ই নয়, তাঁর জ্যেঠু, পিসি সকলের সৎকারের সময়ই তাদের প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি জানান, বয়স হয়ে যাওয়ার কারণে তাঁর বাবা কোনও কাজ করতে পারতেন না। এই প্রতিবেশীরাই তাঁর বাবাকে টাকা, খাবার দিতেন। চুমকির কথায়, “গ্রামের মানুষের জন্যই বাবা এতদিন বেঁচে ছিলেন”।





