আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এই মুহূর্তে উত্তাল রাজ্য। দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ। আজ, বৃহস্পতিবারই সুপ্রিমকোর্টে ছিল আর জি কর মামলার শুনানি। আর এদিনই আবার ঘটে গেল আরও এক চিকিৎসকের রহস্যমৃত্যু। উদ্ধার চিকিৎসকের মৃতদেহ। তিনিও কী থ্রেট কালচারের বলি? ক্রমেই ঘনাচ্ছে রহস্য।
ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যালে। ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ওই মেডিক্যালের রেসিডেন্ট চিকিৎসকের দেহ। জানা গিয়েছে, চিকিৎসকের নাম দীপ্র ভট্টাচার্য। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগে কর্মরত ছিলেন তিনি। ঝাড়গ্রামের ঘোড়াধরা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। তাঁর মৃতদেহের পাশে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট ও সিরিঞ্জ।
জানা গিয়েছে, ওই চিকিৎসকের স্ত্রী ও পরিবার থাকতেন অন্য জায়গায়। এদিন দীর্ঘক্ষণ দীপ্রর স্ত্রী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন নি। ফলে সন্দেহ হয় তাঁর। ফ্ল্যাটে যান তিনি। ডাকাডাকি করেও সাড়া মেলেনি। ফলে দরজা ভাঙার উপক্রম হয়। আর এরপরই উদ্ধার হয় দীপ্রর মৃতদেহ। পাশে পড়েছিল একটি সিরিঞ্জ ও সুইসাইড নোট।
জানা গিয়েছে, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের খুনের বিষয় নিয়ে পোস্ট করেছিলেন তিনি। থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, বছর দেড়েক আগে তিনিও আর জি করে ছিলেন। আর জি করের চিকিৎসক-অধ্যাপকদের একাংশের বিরুদ্ধে থ্রেট কালচারে মদত দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। চাকরি বাঁচাতে ওই চিকিৎসক-অধ্যাপকরা দুর্নীতিতেও মদত দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
সূত্রের খবর, বেলা ১২টা ১৩ মিনিটে তিনি যখন হোয়াটসঅ্যাপে ওই মেসেজ পাঠান, তখন তা দেখে তাঁর সহকর্মীরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোন সুইচ অফ ছিল। আর এরপরই উদ্ধার হয় চিকিৎসকের মৃতদেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, চিকিৎসক আত্মঘাতী হয়েছেন। দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। রিপোর্ট এলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। শোনা যাচ্ছে, স্ত্রীর সঙ্গে কোনও সমস্যা চলছিল দীপ্রর। সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই আত্মহত্যা নাকি তিনিও থ্রেট কালচারের বলি, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুনঃ ২ দিনে তিনবার পিছিয়ে ৩০ মিনিটের মধ্যেই শেষ আর জি করের শুনানি, চার সপ্তাহের মধ্যে সিবিআইকে রিপোর্ট জমার নির্দেশ, আর কী জানাল সুপ্রিম কোর্ট?
চিকিৎসকের মৃত্যু প্রসঙ্গে চিকিৎসক সংগঠনের নেতা উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি তাঁর নোটটা দেখেছি। আমাদের এই সময়ে যে আন্দোলনটা চলছে, তার প্রতি শব্দই ওই নোটে রয়েছে। আমরা খুবই মর্মাহত। এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে কিনা, তা তদন্ত সাপেক্ষ। আপাতত ময়নাতদন্ত চলছে”।






