মানা হল না জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবী, শর্ত দিয়ে আলোচনায় নারাজ নবান্ন, বাতিল আলোচনা সভা

স্বাস্থ্য সচিবের চিঠিতে বরফ না গলায় এবার জুনিয়র ডাক্তারদের চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যসচিব। চিঠি দিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের নবান্নে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছিল। সন্ধে ছটার সময় ১২ থেকে ১৫ জনের প্রতিনিধি নিয়ে জুনিয়ার ডাক্তারদের বৈঠকে আসার কথাও জানানো হয়েছিল মুখ্য সচিবের তরফে। তবে সেই শর্ত মানতে চান নি জুনিয়র চিকিৎসকরা। তারা পাল্টা শর্ত দিয়েছিলেন নবান্নকে। কিন্তু সেই দাবী মানা হল না নবান্নের তরফে। 

বুধবার ভোররাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইমেল পাঠায় জুনিয়ার ডাক্তাররা। সেই মেলের উত্তর দুপুর গড়িয়ে গেলেও আসেনি বলেই জানিয়েছিলেন তারা। তারপরই সন্ধ্যা ৬টার সময় জুনিয়র ডাক্তারদের চিঠি দিয়ে নবান্নে বৈঠকের জন্য আহ্বান জানান মুখ্যসচিব। চিঠিতে মুখ্যসচিব জানান ১২ থেকে ১৫ জনের প্রতিনিধির দল বৈঠকে আসতে পারে জুনিয়র ডাক্তারদের তরফ থেকে। যেকোনও রকম গঠনমূলক আলোচনার জন্য প্রস্তুত সরকার কারণ তাতে রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আরও উন্নত এবং সুরক্ষিত হবে বলেই চিঠিতে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। এর পাশাপাশি হাইকোর্টের নির্দেশকে মনে করিয়ে সবাইকে কাজে ফেরার অনুরোধও জানান মুখ্যসচিব।

মুখ্যসচিব চিঠিতে লেখেন, “১০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে যোগ দিতে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আইন মান্যকারী হিসেবে প্রত্যেকেরই উচিত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করা। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেটা এখনও দেখা যায়নি। আশা করি শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আপনারা দ্রুত কাজে যোগ দেবেন। কাজে যোগ দিলে, আপনাদের সব সুবিধা-অসুবিধার খেয়াল রাখবে রাজ্য। গতকালও আলোচনায় আহ্বান জানিয়েছিলাম। আপনারা সম্মত হননি আপনারা। আবারও আলোচনায় আহ্বান জানাচ্ছি”।

তবে জুনিয়র চিকিৎসকদের পাল্টা শর্ত ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই আলোচনা হবে। আর গোটা আলোচনার লাইভ টেলিকাস্ট করতে হবে যাতে সাধারণ জনগণও তা দেখতে পান। কথার পিঠে কথা উঠবেই আলোচনায়,  একথাও জানিয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। কিন্তু সেই শর্ত মানল না নবান্ন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও রাজ্য পুলিশের ডিজি এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, শর্ত দিয়ে কখনও কোনও আলোচনা হতে পারে না। সেই কারণেই জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা বৈঠক বাতিল করল নবান্ন। 

আরও পড়ুনঃ ‘পাবলিক মরছে তাহলে চিকিৎসকরা সুরক্ষিত থাকবেন কেন…’, মমতা সতর্কবাণীর পরও আর জি কর নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য তৃণমূল বিধায়কের

বলে রাখি, জুনিয়র ডাক্তারদের দাবীগুলোর মধ্যে অবশ্যই প্রথম নির্যাতিতা মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের সঠিক বিচার এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি। সমস্ত দোষীদের গ্রেফতার করে কঠিনতম শাস্তি দিতে হবে এবং সন্দীপ ঘোষ কে গ্রেফতার করে তদন্ত করতে হবে। এছাড়াও তথ্য এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তিমূলক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে। এই প্রসঙ্গে তারা স্বাস্থ্য সচিব, ডিএমই এবং হেল্থ সার্ভিসেসের ডিরেক্টরের ইস্তফার দাবি অনেকদিন ধরেই জানিয়ে আসছেন। তাছাড়া কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের ইস্তফাও দাবি করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।

Debdut Bhattacharjee

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর