সামনের সপ্তাহেই কালীপুজো। আর বেশিদিন নেই হাতে। কালীপুজোয় সারাদিন নির্জলা উপবাস করে মায়ের কাছে অঞ্জলি দেন ভক্তরা। অনেকেই নৈহাটির বড়মাকে খুব মানেন। বলা হয়, বড়মা নাকি কাউকে খালি হাতে ফেরান না। মনের ইচ্ছা পূরণ করেন বড়মা। সেই কারণে কালীপুজোতে বড়মার কাছে পুজো দিতে চান অনেকেই। কিন্তু দূরে থাকার কারণে তা অনেক ক্ষেত্রে হয়ে ওঠে না। তবে এবার তা হবে। ভক্তদের কথা মাথায় রেখেই এবার পুজো কমিটির তরফে আনা হল বিশেষ অ্যাপ।
শুধুমাত্র রাজ্যই নয়, দেশের নানান প্রান্ত এমনকি বিদেশেও নৈহাটির বড়মার মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই চান বড়মার কাছে পুজো দিতে। এবার তা হল খুব সহজ। ঘরে বসেই বড়মাকে পুজো দিতে পারবেন ভক্তরা। অ্যাপের সাহায্যে সরাসরি পুজো দিতে দিতে পারবেন তারা।
কীভাবে পুজো দেওয়া যাবে?
পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, প্রথমে গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘জয় বড় মা’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট ইমেল আইডির সাহায্যে লগ ইন করতে হবে ওই অ্যাপে। এরপর এডিট প্রোফাইলে গিয়ে নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর দিয়ে নিজের প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। অ্যাপের পুজো অপশনে ক্লিক করলেই অমাবস্যা, শনিবার, মঙ্গলবার-সহ নানান দিনের পুজোর তালিকা খুলে যাবে। নিজের পছন্দমতো দিন বেছে নিতে হবে ভক্তদের। এরপর নাম, গোত্র, ঠিকানা, তারিখ ও ফোন নম্বর লেখার জায়গাটি খুলবে। সেটি পূরণ করলেই পুজোর তালিকায় নাম নথিভুক্ত হয়ে যাবে।
কীভাবে দক্ষিণা দেওয়া যাবে?
জানা গিয়েছে, দক্ষিণা দেওয়ার বিষয়টি ঐচ্ছিক। শুরুতেই ভক্তরা দক্ষিণা দিতে চান কী না, তার জন্য দুটি অপশন থাকবে। সেখান থেক নিজের পছন্দ বেছে নিতে পারেন ভক্তরা। এরপর নাম নথিভুক্ত করার সময় দক্ষিণা দেওয়ার অপশনে গিয়ে নিজের খুশিমতো দক্ষিণা দেওয়া যাবে। অনলাইন বা ইউপিআই অ্যাপের মাধ্যমে টাকা দিতে হবে।
এই অনলাইনে পুজো দেওয়ার বিষয়ে পুজো সমিতির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য বলছেন, “অনলাইনে অ্যাপের মাধ্যমে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের প্রথম থেকেই শর্ত ছিল স্বচ্ছতা রাখার। তাই অ্যাপের মাধ্যমে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষিণা বাধ্যতামূলক নয়। এছাড়াও অ্যাপের মাধ্যমে কতবার পুজো দেওয়া হয়েছে, মোট কত টাকা দক্ষিণা দেওয়া হয়েছে তার পেমেন্ট হিস্ট্রিও ভক্তরা দেখতে পারবেন”।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে বন্ধ তামাকজাত পানমশলা-গুটখা বিক্রি, মেয়াদ বাড়ল বিক্রির নিষেধাজ্ঞায়
বলে রাখি, গত বছরই ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে নৈহাটির বড়মা’র পুজোর। সেই উপলক্ষ্যে গত বছর লক্ষ্মীপুজোর দিন সেখানে বড়মা’র নতুন মন্দিরের উদ্বোধন হয়। এর আগে মন্দিরে সারাবছর বড়মা’র ছবিতে পুজো হত। তবে নতুন মন্দিরে স্থাপিত হয় বড়মা’র কালো কষ্টিপাথরের মূর্তি। এরপর থেকে ভক্তদের ভিড় বেড়েছে মন্দিরে।






