এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে পার্থ ঘনিষ্ঠ মিডলম্যানের থেকে ১৬৩ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি, বিপাকে পড়বেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী?

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির শিকড় যে অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা আগেই জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করছে সিবিআই-ইডি। এবার এই দুর্নীতির মিডলম্যান অভিযুক্ত প্রসন্ন রায়ের ১৬৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি, এমনটাই খবর।

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার হয়েছেন একের পর এক প্রভাবশালী। তালিকায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও শিক্ষা মহলের একাধিক  আধিকারিক। পার্থর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দুটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৫০ কোটি টাকা। এবার সেই মামলাতেই ফের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি।

এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রসন্ন রায়। সিবিআইয়ের চার্জশিট অনুযায়ী, যারা টাকার বিনিময়ে চাকরি পেয়েছেন, তারা এই প্রসন্ন রায়ের হাতেই তুলে দিতেন টাকা। তারপর সেই টাকা যেত রাঘব বোয়ালদের হাতে। এই দুর্নীতি মামলায় গ্রুপ সি ও ডি মিলিয়ে মোট ৫৪৪ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত।

ইডি সূত্রে খবর, প্রসন্ন রায়ের বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে একাধিক হোটেল ও রিসোর্ট। ইডি আগে জানিয়েছিল, প্রসন্ন রায় মিডলম্যান হিসেবে একজন প্রার্থী জোগাড় করে দেওয়ার জন্য দেড় লক্ষ টাকা পেতেন। এই প্রসন্ন রায় বিধাননগরে একটি গাড়ি ভাড়া দেওয়ার সংস্থার আড়ালে চাকরি বিক্রি চক্র চালাতেন বলে অভিযোগ। টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার জন্য প্রার্থীদের এসএসসি উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক শান্তিপ্রসাদ সিংহের কাছে পাঠাতেন প্রসন্ন রায়। সেই তালিকা মিলিয়ে অযোগ্যদের সুপারিশপত্র দিতেন শান্তিপ্রসাদ সিংহ, এমনটাই অভিযোগ।

প্রসন্ন রায় অবশ্য প্রথম থেকে দাবী করেছিলেন, তাঁর একাধিক ব্যবসা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যে। তদন্তে নেমে ইডি প্রসন্ন রায়ের নানান সংস্থা থেকে ২৬ কোটি টাকার খোঁজ পায়। প্রসন্ন রায় দাবী করেছিলেন, তিনি নাকি কৃষিকাজ করে এত এত কোটি টাকা আয় করেছেন।

আরও পড়ুনঃ আর চিন্তা নেই, আপনার পুজো পাবেন বড়মা! অনলাইনে দেওয়া যাবে নৈহাটির ‘বড়মা’র পুজো, বিশেষ অ্যাপ আনল পুজো কমিটি

পরবর্তীতে প্রসন্ন রায়ের স্ত্রী ও ঘনিষ্ঠদের মোট ২৫০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ মেলে। ইডি চার্জশিটে জানায়, সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে ৭২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রথমে প্রসন্ন রায়কে গ্রেফতার করার পর তাঁর জামিন হয়ে যায়। তবে চলতি বছরে ফের গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।   

RELATED Articles