বিচারকদের উপর হামলা নিয়ে বি*স্ফোরক তথ্যের ইঙ্গিত, ২৫ পাতার রিপোর্টে কি উঠে এল প্রশাসনিক গাফিলতি? সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের আগে বাড়ছে জল্পনা, মোথাবাড়ি কাণ্ডে এবার কোন পথে যাবে আইন?

রাজ্যের রাজনীতি যখন নির্বাচনের উত্তাপে ফুটছে, ঠিক সেই সময় এক ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে প্রশাসনের ওপর। মালদার মোথাবাড়ির ঘটনা এখন আর শুধু একটি বিচ্ছিন্ন হিংসার ঘটনা নয়, তা ধীরে ধীরে দেশের বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলার বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে। কী ঘটেছিল সেদিন, কার কোথায় ভূমিকা ছিল এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন সবার চোখ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে।

এই আবহেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA) তাদের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পূর্ণ করেছে। সূত্রের খবর, সংস্থার আইজি সোনিয়া সিং ইতিমধ্যেই ২৫ পাতার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট নিয়ে দিল্লিতে পৌঁছেছেন। আজ সেই রিপোর্ট জমা পড়তে চলেছে সুপ্রিম কোর্টে। এই রিপোর্টে হামলার আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা জড়িত ছিল এবং প্রশাসনের ভূমিকা কতটা কার্যকর ছিল, সবকিছুই বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

রিপোর্ট জমা পড়ার আগেই নবান্নে অস্বস্তি বাড়তে শুরু করেছে। কারণ, ঘটনার দিন রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল আদালত। রাজ্যের মুখ্য সচিব, পুলিশের ডিজি থেকে শুরু করে জেলার এসপি ও ডিএম, একাধিক আধিকারিককে শো’কজ করা হয়েছিল। এবার রিপোর্টে যদি গাফিলতির প্রমাণ মেলে, তাহলে শীর্ষ আদালত কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের একাংশের আশঙ্কা, বিষয়টি শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে, বরং শাস্তিমূলক নির্দেশও আসতে পারে।

এই মামলার গুরুত্ব বোঝাতে আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। আদালতে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “যদি বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরাই নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বিষয়টি কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা আরও জোরদার করার ইঙ্গিতও দিয়েছিল আদালত। ফলে আজ রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর কী নির্দেশ আসে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃ “পুরো দেশ দেখেছে কীভাবে বিচারকদের বন্দি রাখা হয়েছিল, এটাই তৃণমূলের জঙ্গলরাজ..তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ” মালদাহ কাণ্ড এবং জঙ্গলরাজ দুর্নী*তির অভিযোগে সরব প্রধানমন্ত্রী! ভোটের পর কি সত্যিই শুরু হবে জবাবদিহির নতুন অধ্যায়?

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে মালদার মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা হামলার মুখে পড়েন। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা তাঁদের গাড়িতে হামলা চালায় এবং হেনস্থা করে। সেই ঘটনার পরেই মামলা সরাসরি এনআইএ-র হাতে তুলে দেয় আদালত। এখন এই রিপোর্ট সামনে আসার পর গোটা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই এই ঘটনা রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর