“পুরো দেশ দেখেছে কীভাবে বিচারকদের বন্দি রাখা হয়েছিল, এটাই তৃণমূলের জঙ্গলরাজ..তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ” মালদাহ কাণ্ড এবং জঙ্গলরাজ দুর্নী*তির অভিযোগে সরব প্রধানমন্ত্রী! ভোটের পর কি সত্যিই শুরু হবে জবাবদিহির নতুন অধ্যায়?

বাংলার রাজনীতিতে আবারও উত্তাপ বাড়ছে। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বদলের আলোচনা যেন সাধারণ মানুষের চায়ের আড্ডা থেকে বাজার, সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, প্রত্যাশা আর উন্নয়নের দাবি, সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতি এখন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই পরিস্থিতিতেই উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে শোনা গেল নতুন করে পরিবর্তনের ডাক, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

এই আবহেই রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে প্রথমবার নির্বাচনী প্রচারে এসে হাজির হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিকেল গড়াতেই জনসমুদ্র ভরে ওঠে সভাস্থল, আর সেখান থেকেই তিনি বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক ইস্যু তুলে ধরেন। বক্তব্যের শুরুতেই বাংলায় শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অনিয়মের কারণে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে।

সভা এগোতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি আক্রমণ শানান মোদি। মালদার সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থার উপর আক্রমণ এবং প্রশাসনিক অস্থিরতা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে “জঙ্গলরাজ” তৈরি হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, যখনই আইনি ব্যবস্থা কঠোর হতে চায়, তখনই সাংবিধানিক সংস্থাগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের তিনি আশ্বস্ত করেন, গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁদের সাহসী ভূমিকা নেওয়া জরুরি।

এদিনের ভাষণে উঠে আসে অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাস পরিবর্তন এবং সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তার বিষয়ও। মোদির দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তবে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে এই সমস্যা মোকাবিলা করা হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন বনাম অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একদিকে যেখানে কাটমানি, বেকারত্ব ও সিন্ডিকেট রাজ চলছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়নের রাস্তায় এগোচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ “চার তারিখের পর বাকি জীবন কীভাবে কাটবে ভাবুন” এ কি গণতন্ত্র না দমনের রাজনীতি? গোসাবায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তায় উঠছে বড় প্রশ্ন! ভেতরের দ্ব*ন্দ্ব ঢাকতেই কি এই কড়া হুঁশিয়ারি?

সবশেষে ভোটের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বড় বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ৪ মে-র পর আইন নিজের পথে চলবে এবং যারা দুর্নীতি বা অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জবাবদিহি করতেই হবে। “ডাবল ইঞ্জিন সরকার” গঠনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গসহ গোটা বাংলায় উন্নয়নের নতুন দিশা খুলে যাবে। একইসঙ্গে মহিলা ভোটারদের উদ্দেশে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আগামী দিনে নারীরাই দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা নেবেন। কোচবিহারের মাটি থেকে দেওয়া এই বার্তা যে রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখনই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles