Mamata Banerjee on north bengal: “সারা বিশ্বে প্রাকৃতিক বিপর্যয় চলছে। দীর্ঘদিন প্রকৃতির প্রতি অবহেলা করা হয়েছে।”—উত্তরবঙ্গ ধস পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি বার্তা দিয়েছেন?

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে ভয়াবহ বৃষ্টিপাত ও ধসের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। মিরিক, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের অঞ্চলগুলোতে কয়েকটি জায়গায় ভূমিধস নেমে বহু মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার মানুষ এবং পর্যটকরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সরব হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ক্রমাগত মনিটর করা হচ্ছে এবং সবাইকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উত্তরবঙ্গে ধস হয়েছে। বৃষ্টিতে ভূটান-সিকিম থেকে পানি এসে এলাকায় প্রবাহিত হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনা আমাদের মর্মাহত করেছে। আমি সকাল ৬টা থেকে পরিস্থিতি দেখছি। একটানা ১২ ঘণ্টা বৃষ্টি হয়েছে। পাঁচটি জেলার জেলাশাসককে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছি।” তিনি পর্যটকদের উদ্দেশ্যেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “পর্যটকরা যে জায়গায় আছেন, সেখানে থাকবেন। হোটেল মালিকদের কোনো প্রকার অতিরিক্ত ভাড়া চাপানো থেকে সরকার রোধ করবে। আমরা পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করছি।”

পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে কারণ মিরিকের কিছু নতুন পাহাড়ে বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড় তুলনামূলকভাবে শক্ত, কিন্তু মিরিকে নতুন পাহাড়ে খালি খোদাই করে বাড়ি তৈরি হচ্ছে। এই কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে।” এছাড়া, মিরিক ও আশেপাশের এলাকা থেকে পানি বাইরে এসেছে এবং আলিপুরদুয়ারেও পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতিকেও তিনি তুলে ধরেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ডিভিসি থেকে জল ছাড়া হয়েছে। ঘাটাল নিচু জমি, তাই জল জমেছে। গঙ্গা যদি ভর্তি থাকে, জল কোথায় যাবে? সারা বিশ্বে প্রাকৃতিক বিপর্যয় চলছে। দীর্ঘদিন প্রকৃতির প্রতি অবহেলা করা হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, জলবিঘ্নে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Mu*rder: আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার অর্ধ*নগ্ন মহিলার দেহ, ধর্ষ*ণের অভিযোগে তদন্ত শুরু!

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি শিলিগুড়িতে যাব, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদে নিয়ে আসার ব্যবস্থা দেখব। যাদের বাড়ি ধ্বংস হয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এবং যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।” তিনি পর্যটকদের সতর্ক করেছেন যাতে তাড়াহুড়া না করেন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন। রাজ্যের প্রশাসন এই বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

RELATED Articles