এসএসসি নিয়োগে দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) এবং কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় (Kalyan Ganguly) দু’জনকেই নিজেদের হেফাজতে নিতে চায় সিবিআই (CBI)। আজ, শুক্রবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়কে আগেই আদালতে তোলা হয়েছিল। এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ আলিপুর আদালতে (Alipur Court) সশরীরের হাজির করানো হয় প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও।
এসিন আদালতে বিস্ফোরক দাবী করে পার্থ বলেন, “আমি যখন শিক্ষামন্ত্রী ছিলাম তখন আমার ভূমিকা ঠিক কী ছিল তা খতিয়ে দেখা হোক। আমি শিক্ষা মন্ত্রী পদে ছিলাম ঠিকই, কিন্তু নিয়োগের ব্যাপারে আমার নিয়ন্ত্রণ ছিল না”। এদিন পার্থ এও দাবী করেন যে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তাঁকে গ্রেফতার করলেও এখনও পর্যন্ত কোনও চার্জশিট পেশ করতে পারে নি। তাই তাঁকে যাতে জামিন দেওয়া হয়, সেই দাবীও তোলেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
পার্থই এই দাবী যে বিস্ফোরক, তা বলাই বাহুল্য। আবার অন্যদিকে, সিবিআইয়ের দাবী, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ হলেন পার্থই। কল্যাণ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অশোক সিনহা, শান্তিপ্রসাদ সিনহা এরা সকলেই এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে লিপ্ত ছিলেন।
পার্থর এহেন মন্তব্য থেকে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে পার্থর হাতে যদি নিয়োগ করার ক্ষমতা না-ই থেকে থাকে, তাহলে সেই নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল? শিক্ষা দফতর তথা নিয়োগ প্রক্রিয়া কারা নিয়ন্ত্রণ করত? বলে রাখি, এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বাগ কমিটি যে রিপোর্ট পেশ করে, সেই রিপোর্টে নিয়োগ দুর্নীতিতে লিপ্ত থাকার নাম উঠেছিল কল্যাণ গঙ্গোপাধ্যায়, অশোক সিনহা, শান্তিপ্রসাদ সিনহাদে বিরুদ্ধে। আবার শান্তিপ্রসাদকে এসএসসি-র উপদেষ্টা হিসেবে পার্থই নিয়োগ করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গ্রুপ সি মামলায় পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ হয়েছিল। কিন্তু তার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় দু’বছর পর অর্থাৎ ২০১৯ সালে। সিবিআইয়ের অভিযোগ অন্তত চারশ জন প্রার্থীকে বেআইনি ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে।
এদিন আদালতে পার্থর এমন দাবী প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “আমরা গোড়া থেকেই বলছিলাম, শুধু শিক্ষামন্ত্রী নন এই নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে সরকারের মাথারাও জড়িত ছিলেন। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি কী করবে জানি না। তবে আমরা চাইব কলকাতা হাইকোর্ট তথা আদালত পার্থর এই বক্তব্যকে যেন গুরুত্ব দেয়। এবং সেই অনুযায়ী তদন্তের নির্দেশ দেয়”।





