আর জি কর কাণ্ডের জেরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। হাসপাতালে পরিষেবা দিচ্ছেন সিনিয়র চিকিৎসকরা। জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জেরে বিনা চিকিৎসায় একাধিক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী করেছে রাজ্য। এরই মধ্যে এবার ফের সরকারি হাসপাতালে রোগী মৃত্যুকে ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল।
ঘটনাটি ঘটেছে কামারহাটির সাগর দত্ত হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, গতকাল, সোমবার এক রোগীকে প্রথমে ব্যারাকপুর বিএন বোস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে আজ, মঙ্গলবার সকালে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় সাগর দত্ত হাসপাতালে। সকাল ৮টা নাগাস ওই রোগীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় বলে খবর।
সূত্রের খবর, ওই রোগীর জ্বর হয়েছিল। সঙ্গে ডায়াবেটিস ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা ছিল তাঁর। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, যে চিকিৎসক রোগীর চিকিৎসা করছিলেন, তিনি মদ খেয়ে ছিলেন। ঠিকমতো চিকিৎসা করতে পারেন নি। সেই কারণেই মৃত্যু হয় রোগীর।
রোগীর পরিবারের দাবী, তারা যখন রোগীকে নিয়ে জরুরি বিভাগে যান, সেই সময় একজন চিকিৎসক সেখানে যান ঠিকই কিন্তু তিনি নাকি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। ঠিকভাবে কথাও বলতে পারছিলেন না তিনি এমনকি কিছু লিখতেও পারছিলেন না বলে অভিযোগ। রোগীর মৃত্যুর কয়েক মিনিট পরও তিনি যে মারা গিয়েছেন, তা তাদের জানানো হয়নি বলে দাবী পরিবারের।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে। তাদের পাল্টা দাবী, যে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হচ্ছে, তিনি আগের রাতে ডিউটি করেছেন। মদ খেয়ে থাকলে সারারাত তিনি ডিউটি করতে পারতেন না। এই রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাগর দত্ত হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান রোগীর পরিবার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ ও র্যাফ নামে।
আরও পড়ুনঃ আর জি কর কাণ্ড থেকে শিক্ষা, সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তার স্বার্থে রাজ্যকে কী কী নির্দেশ দিলেন প্রধান বিচারপতি?
বলে রাখি, মৃত ওই রোগীর নাম প্রশান্ত সাউ। বয়স ৪৯ বছর। তিনি টিটাগড়ের বাসিন্দা বলে খবর। প্রথমে জুটমিলে কাজ করতেন। পরে হোটেল ব্যবসা করতেন বলে জানা গিয়েছে।





