জুনের শেষে শহর এবং শহরতলির যাত্রীদের দুর্ভোগ যেন প্রকৃতির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। টানা বৃষ্টিতে শহরের রাস্তাঘাট তো জলের তলায়, সঙ্গে যোগ হচ্ছে ট্রেন চলাচলের সমস্যাও। অফিস যাওয়া কিংবা স্কুল পৌঁছনো—সব কিছুই হয়ে উঠছে দুঃস্বপ্ন। আর ঠিক এই সময়েই উত্তরের হাসনাবাদ-শিয়ালদা শাখায় দেখা দিল নতুন বিপর্যয়, যা অনেককে কার্যত নাজেহাল করে ছাড়ল।
সোমবার সকাল সাড়ে সাতটা। দিনের কাজ শুরু হওয়ার মুখে স্থানীয়রা আচমকাই ভাসিলা স্টেশনে বসে পড়েন রেল লাইনের উপর। তাঁদের দাবি? দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনে পৌঁছনোর রাস্তা এতটাই খারাপ অবস্থায় আছে যে সেখানে চলাচলই দায়। বর্ষাকালে কাদা, জল, মাটিধস মিলিয়ে সেই রাস্তায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। বারবার প্রশাসনকে জানান সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। তাই আর কোনো রাস্তা না দেখে অবরোধের পথেই হাঁটলেন স্থানীয়রা।
রেল অবরোধ শুরু হতেই আটকে পড়ে একের পর এক লোকাল ট্রেন। হাসনাবাদ-শিয়ালদা শাখার লাইনে আটকে যায় কমপক্ষে আটটি ট্রেন। যাত্রীদের মধ্যে দেখা দেয় বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ। অফিস টাইমে ট্রেন না চলায় সমস্যায় পড়েন কর্মজীবীরা, কলেজ-স্কুলগামী পড়ুয়ারাও ঘুরপাক খান স্টেশনে। একদিকে টানা বৃষ্টির ফলে জলমগ্ন শহর, অন্যদিকে দেরি বা বাতিল ট্রেন—সব মিলিয়ে যাত্রীদের নাভিশ্বাস ওঠে।
অবরোধের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের আধিকারিকেরা। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তাঁরা এবং আশ্বাস দেন রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন বাসিন্দারা। তবে ততক্ষণে বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচলে বিপর্যয় ঘটে যায়। বারাসাত-হাসনাবাদ লোকাল ট্রেনটি বাতিল করতে বাধ্য হয় রেল। বেশ কিছু ট্রেন সময়ের অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ Kasba law college : সকাল থেকেই ইউনিয়ন রুমে ছিলেন আরও এক ছাত্রী! দক্ষিণ কলকাতা আইন কলেজ কাণ্ডে নয়া মোড়!
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপ ও ডাউন মিলিয়ে আটটি ট্রেন এখনও পর্যন্ত দেরিতে চলছে। পরিষেবা স্বাভাবিক করতে তৎপর রেল, তবে দুপুর নাগাদ ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা। যাত্রীদের যাতে আর অসুবিধা না হয়, সেই লক্ষ্যে দ্রুত কাজ চলছে। কিন্তু যেহেতু শহরজুড়ে বৃষ্টির প্রকোপ অব্যাহত, তাই ট্রেনের দেরি এবং রাস্তাঘাটের সমস্যা মিলিয়ে আজও অনেকের দিনটা শুরু হয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো।






