রাজ্যে মিড ডে মিল নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। কখনও মিড ডে মিলের খাবারে পাওয়া যায় মরা সাপ, পোকা, কেঁচো তো কখনও আবার পোকাধরা চাল দিয়ে মিড ডে মিলের খাবার তৈরি করার অভিযোগ ওঠে। এমন নানান অভিযোগ আগে বহুবার এসেছে। এবার এক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খাবারে মিলল গোটা ইঁদুর সেদ্ধ। যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় এলাকায়। সেই খাবার খেয়েছিল স্থানীয় শিশু ও গর্ভবতী মহিলারা। যদিও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রাঁধুনির দাবী, কীভাবে ইঁদুর এল, তিনি জানেন না।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
এই ঘটনাটি ঘটেছে নলহাটির কুরুমগ্রামের মহিষপাড়ায়। সেখানকার ৩ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আজ, শনিবার সকালে দেওয়া হয় খিচুড়ি। এলাকার ৭৩ জন শিশু ও একাধিক গর্ভবতী মহিলা সেই খিচুড়ি নিয়ে যান। এক মহিলা খাওয়ার সময় সেই খিচুড়িতে ইঁদুরের পা দেখতে পান বলে অভিযোগ। তা লোকজনদের ডেকে দেখান তিনি। আর তা থেকেই পড়ে যায় হুলস্থূল।
কী জানাচ্ছেন ওই মহিলা?
পূর্ণিমা মণ্ডল নামে ওই মহিলা বলেন, “খিচুড়ি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বাচ্চাকে খাওয়ালাম। পরে কিছুটা ছিল, ভাবলাম সেটা খেয়ে নিই। সেই খিচুড়ি খেতে গিয়ে দেখি ইঁদুরের পা পড়ে আছে। পরে সেই ইঁদুরের পা সকলকে এনে দেখালাম। পরে রান্নার হাঁড়িতে দেখি ইঁদুর পড়ে আছে। এই খিচুড়িই তো এতগুলো বাচ্চা খেল। ওদের তো শরীর খারাপও হতে পারে”।
এক স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য, “রান্নার সময় একটু তো যত্নবান হতে হবে। এখানে সময় বাঁচাতে যা খুশি করা হয়। খিচুড়ি বসাল কোনও একটা হাঁড়িতে। তার উপর একটা পাত্র বসিয়ে ডিম সেদ্ধ করে। ভাপে ডিম সেদ্ধ হয়। খিচুড়িটা নাড়াচাড়াও করে না”।
তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রাঁধুনি লক্ষ্মী মহারাজ। তাঁর দাবী, “নতুন বস্তা থেকে চাল নিয়ে রান্না করি। ভালভাবে ধুয়ে নজর দিয়েই রান্না করেছি। এমনকী মায়েদের যখন খাবার তুলে দিলাম, হাঁড়িতে ইঁদুর থাকলে তো দেখতে পেতাম। কী করে ইঁদুর চলে এলো বুঝলামই না। হাঁড়িতে একটা বড় ইঁদুর পড়ে থাকলে রান্নার সময় একবার না একবার তো দেখতেই পেতাম। কী হয়েছে বুঝলাম না”।





