গতকাল, শনিবার রাত ৩টের সময় কংগ্রেস মুখপাত্র তথা হাইকোর্টের আইনজীবী কৌস্তভ বাগচির বাড়ি হানা দেয় পুলিশ। প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি। এরপর গ্রেফতার করা হয় কৌস্তভকে। কিন্তু গ্রেফতারির সময় কোনও নোটিশ ছিল না পুলিশের কাছে। সেই কারণে গ্রেফতারি মিমোয় সইও করেন নি কৌস্তভ। তাঁর এই গ্রেফতারি নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা।
সাগরদিঘি উপনির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রতিবাদে পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মুখ খোলেন কৌস্তভ। এটাই ছিল তাঁর ‘অপরাধ’। কৌস্তভের দাবী, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন বলেই তাঁর বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করানো হল।
পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় কৌস্তভ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাকে এতটা ভয় পাবেন, আমি ভাবিনি। এটা আমার নৈতিক জয়”। তিনি এও জানান যে তিনি আইনি পথেই এই লড়াই লড়বেন। কৌস্তভের মন্তব্যের জেরে রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে বলে দাবী পুলিশের। সেই কারণেই নাকি এই গ্রেফতারি। এই ঘটনায় কংগ্রেস বিক্ষোভ দেখাবে বলে জানা গিয়েছে।
কৌস্তভ জানান, “রাত ৩ টেয় এমনভাবে পুলিশ এসে উপস্থিত হয়েছে, যেন আমি কোনও সন্ত্রাসবাদী, কোনও বিস্ফোরণ ঘটিয়েছি। তবে পুলিশও নিরুপায়। ওদের কিছু করার নেই। নেত্রী যে এভাবে আমাকে ভয় পাবেন, আমি ভাবিনি”।
আইনজীবী আরও বলেন, “আজ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক লড়াই শুরু হল। লড়াই হবে আইনি পথেও। আমার নাম কৌস্তভ বাগচী, আমিও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নই”।
বর্তমানে তাঁকে বড়তলা থানায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০(বি), ১৫৩, ৩৫৪(এ), ৫০৪, ৫০৫, ৫০৬, ৫০৯ ধারায় মামলা রুজু করেছে। এদিকে, দলীয় নেতার গ্রেফতারির খবর পাওয়ামাত্রই কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা বড়তলা থানার সামনে ভিড় জমান। বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা।
আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতার গ্রেফতারির ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল। পুলিশি ধরপাকড়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও কথা বলার মানে এটা নয় যে উগ্রপন্থীর মতো বাড়ি ঘেরাও করতে হবে, অমানবিক আচরণ করে তাঁকে তুলে নিয়ে যেতে হবে”। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে অধীর বলেন, “আপনি বলে দিন আপনার সমালোচনা করা যাবে না। শুধু আপনিই সমালোচনা করতে পারবেন। আইন করে দিন আপনি। নিজেকে স্বৈরাচারী ঘোষণা করে দিন”।
সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন চৌধুরীর প্রতিক্রিয়াও প্রায় একইরকম। তাঁর কথায়, “এইভাবে বাড়িতে পুলিশ যাওয়া, এবং গ্রেফতার করা আসলে শাসকের আতঙ্কের লক্ষণ। বাংলায় পুলিশ রাজ কায়েম হয়েছে। আজ ফের একবার মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ সেটা প্রমাণ করে দিল”।






