সাগরদিঘির উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই উপনির্বাচনে হারের পর কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন কংগ্রেস মুখপাত্র কৌস্তভ বাগচি। এর জেরে গ্রেফতার হতে হয়েছে তাঁকে। এবার অধীর চৌধুরীকে বেলাগাম আক্রমণ শানালেন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারও।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অধীর চৌধুরীকে তীব্র আক্রমণ করলেন আরামবাগের সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, অধীর চৌধুরী নাকি তাঁর ‘শিষ্য চামুনডা’দের দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছেন। মুখ্যমন্ত্রীর মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ অপরূপার।
নিজের এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে অধীর চৌধুরীকে তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে সংসদে যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি সোনিয়া গান্ধীকে আক্রমণ করেছিলেন, সেই সময় তিনি ও তৃণমূলের আরেক সাংসদ মহুয়া মৈত্র সোনিয়া গান্ধী ও কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
অপরূপা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে লেখেন, “অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে সেই দিনটির কথা মনে করতে হবে যেদিন সংসদ ভবনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি শ্রীমতি সোনিয়া গান্ধীকে আক্রমণ করেছিলেন, সেই সময় কংগ্রেসের কোনও সদস্য ছিল না, কেবল আমি এবং সাংসদ মহুয়া মিত্র সামনে চীনের প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম। সোনিয়া গান্ধী। সোনিয়াজি গিয়েছিলেন এবং আমাদের ধন্যবাদও দিয়েছিলেন”।
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে তিনি বলেন, “অধীর রঞ্জন চৌধুরী আপনি জানেন আপনি যে শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চেষ্টা করছেন যিনি প্রতিটি (ঘরে ঘরে দিদি) আপনি আপনার কিছু নিজের শিষ্য চামুনডাকে সামনে রেখে মিথ্যে ব্যক্তিগত অভিযোগ দিদির বিরুদ্ধে যা চেষ্টা করছেন কিছু প্রেস মিডিয়া কে নিয়ে তার মানহানি করার রাজনীতি করছেন। মনে রাখবেন আপনি যে রাজনীতি করছেন, আমি আপনার চামড়া খুলে ছড়িয়ে ঢোল তৈরি করে আপনার গুরু মোদিজীর সামনে ঢোল বাজাবো”।

এবার প্রশ্ন উঠছে, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মন্তব্যের জেরে তো কংগ্রেস মুখপাত্র তথা কৌস্তভ বাগচিকে গ্রেফতার করা হল। তাহলে অধীর চৌধুরীকে এভাবে রাজনৈতিক আক্রমণ করার পর তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের বিরুদ্ধে কী কোনও পদক্ষেপ আদৌ করবে পুলিশ। যদিও সেই প্রশ্নের উত্তর আদৌ মিলবে কী না, তা নিয়ে যথেষ্ট ধন্ধ রয়েছে।
এর আগেও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ দেগেছিলেন অপরূপা। সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছিলেন, “ভারতে ৭০ বছর ধরে কংগ্রেস সরকার এবং বাংলায় ৩৫ বছর ধরে সিপিআইএম সরকার মুসলমানদের বোকা বানিয়েছিল এবং এই কারণে কংগ্রেস সাচার কমিটি নিযুক্ত করেছিল, ৩৫ বছরে সিপিআইএম বাংলার মুসলমানদের জন্য কী করেছিল, ২০০৯ সাচার কমিটির রিপোর্ট বেরিয়েছে। আজ দাঁড়িয়ে আছে, অধীর রঞ্জন চৌধুরী কি আজ সেই সাচার কমিটির রিপোর্ট অস্বীকার করতে পারেন? হয় অধীর রঞ্জন চৌধুরী সাচার কমিটির রিপোর্ট বুঝতে পেরেছেন যে ভারতের মানুষ বাংলার বামপন্থীদের ভুলে গেছে অথবা তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অগ্রগতির কাজকে অন্ধকারে রাখতে চান এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চান। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, যখন সিপিআইএম-কংগ্রেস একটি আসনও পায়নি, তখন উভয় দলই তাদের বক্তব্য দিয়েছিল যে আইএসএফ একটি সাম্প্রদায়িক দল, যার কারণে আমরা হাত মিলিয়ে হেরেছি। আজ তারা বলছে নওশাদ সিদ্দিকীর কারণে। যার প্রভাব পড়েছে সাগরদিঘি বিধানসভা নির্বাচনে”।






