আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে আমরণ অনশন করছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে তাদের। এমন আবহে এবার অনশনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের চিঠি দেওয়া হল হেয়ার স্ট্রীট থানার তরফে। জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্না মঞ্চেও আসেন পুলিশ আধিকারিকরা।
অনশনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের হেয়ার স্ট্রিট থানা থেকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, “আমাদের অনুরোধ, আপনারা এই জায়গা ছাড়ুন এবং চিকিৎসার সাহায্য গ্রহণ করুন। সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে”। চিঠিতে এও উল্লেখ করা হয়েছে, তারা অবৈধভাবে এই অবস্থান করছেন। ধর্মতলার এই জায়গায় মঞ্চ বাঁধার কোনও অনুমতি নেই। সেই কারণে চিকিৎসকদের উঠে যেতে বলা হয় ওই চিঠিতে। যদিও আন্দোলনকারীদের তরফে জুনিয়র চিকিৎসক দেবাশিস হালদার বলেন, “দায় ঝেড়ে ফেলতেই এই চিঠি”।
এরপর আজ, বৃহস্পতিবার বিকালে ধর্মতলার অনশনমঞ্চে পৌঁছে যায় পুলিশ। সেখানে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসক দেবাশিস হালদারের ও অনশনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ আধিকারিকরা। কলকাতা পুলিশের অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্য নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল জুনিয়র চিকিৎসকদের। কিন্তু তা তারা প্রত্যাখ্যান করেন। জুনিয়র চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের দাবীগুলির বিষয়ে সরকার যাতে দ্রুত পদক্ষেপ করে।
কলকাতা পুলিশের চিঠি প্রসঙ্গে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, “চিঠিতে বলা হয়েছে, আমরা অনুমতি ছাড়া মঞ্চে বসে আছি। আমাদের উঠে যেতে হবে। জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হচ্ছে। এটা আমরা ভালো ভাবে দেখছি না”।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার থেকে আমরণ অনশন করছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। নিজেদের ১০ দফা দাবীতে অনড় তারা। প্রথমে এই অনশন ৬ জন জুনিয়র চিকিৎসক শুরু করেছিলেন। পরে তাদের যোগ দেন আর জি করের জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। সকলেরই অবস্থার অবনতি হয়েছে। তবে অনিকেতের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে। ধীরে ধীরে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই অনিকেতের লিভারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকরা বেশ উদ্বেগে।
আরও পড়ুনঃ অনশনরত জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহাতোর শারীরিক অবস্থার অবনতি, লিভার-কিডনিতে পড়েছে প্রভাব, কোমায় যাওয়ার সম্ভাবনা, বাড়ছে উদ্বেগ
আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে আমরণ অনশন চালাচ্ছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। ১১৩ ঘণ্টার বেশি সময় কেটে গিয়েছে, তাও নিজেদের দাবী থেকে একচুলও সরানো যায়নি তাদের। তাদের পাশে প্রতীকী প্রতিবাদ করছেন সাধারণ মানুষও। এখনও পর্যন্ত জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে গণইস্তফা দিয়েছেন ২৫০ জন সিনিয়র চিকিৎসক। অনেক সিনিয়র চিকিৎসকরা অনশনরত চিকিৎসকদের বলেছেন যাতে তারা অনশন প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু জুনিয়র চিকিৎসকরা তা মানতে নারাজ।






