ক্রমে ঊর্ধ্বমুখী সব্জি বাজারের দাম। বিশেষত আলুর গায়ে তো হাত ঠেকানোই যাচ্ছেনা। কিন্তু মধ্যবিত্ত বাঙালির আলু ছাড়া তো চলবে না। যেকোনও তরকারিতে আলু যদি সঙ্গী না হয় সেটা আবার তরকারি নাকি! কিন্তু বর্তমানে এহেন অতি জনপ্রিয় আলুর সাত দিনে গড়ে সাত টাকা বাড়ল কেজিপ্রতি দাম। চন্দ্রমুখী আলু ২৮ থেকে বেড়ে এখন ৩৫। জ্যোতি ২২ থেকে বেড়ে কোথাও ২৮ কোথাও ৩০। কিন্তু কেনও দাম বাড়ল, তা নিয়ে নানা মত চালু রয়েছে।
অনেকের মতে লকডাউন ও ঘূর্ণিঝড় আমফানের ত্রাণে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দল ও ক্লাব বস্তা বস্তা আলু তুলে নেওয়ায় বাজারে জোগানে ঘাটতি হওয়ায় দাম বেশি। অন্য একটি মত বলছে লোকাল ট্রেন বন্ধ। ভেন্ডার কামরায় আলু আনা যাচ্ছে না। ট্রাকে আনতে হচ্ছে। জ্বালানী তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য দাম বেশি ।
পোস্তা আলু পট্টি ব্যবসায়ী সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট অবধেস প্রসাদ অবশ্য দিচ্ছেন অন্য যুক্তি। তাঁর মতে, আলুর ফলন ও জোগানে কোনো সমস্যা নেই। আমফানের জেরে অন্য সব্জির ফলন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত । তার ওপর লোকাল ট্রেন বন্ধ। ফলে অন্য সব্জি বাজারে প্রায় আসছে না বললেই চলে। তাই মানুষ শুকনো সব্জি হিসেবে অস্বাভাবিক বেশী পরিমাণে আলু কিনছেন । লক ডাউনের শুরু থেকেই এই প্রবণতা চলছে।
যে ক্রেতা দিনে ১ থেকে ২ কিলো আলু কিনতেন, তিনি ৫ থেকে ১০ কিলো আলু কেনা শুরু করেছেন। ফলে ফলন পর্যাপ্ত থাকলেও খুচরো বাজারে স্টক কম পড়ে যাচ্ছে। পোস্তায় এখন কেজিপ্রতি জ্যোতি আলু ১২ টাকা ৮০ পয়সা । সেই আলু পাইকার ও ফড়েদের হাত ঘুরে খুচরো বাজারে ২৮ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভিন রাজ্য, বিশেষত বিহার, ওড়িশা, অন্ধ্রে এ রাজ্যের প্রচুর আলু রফতানি করা হয়েছে । তার ওপর স্থানীয় চাহিদা যে এখন গগনচুম্বী।






