বাংলার প্রাথমিকে সেমিস্টার নিয়ে তোলপাড় শিক্ষা দফতর। ইতিমধ্যে বেশ তোড়জোড় করে সাংবাদিক বৈঠক করে নিয়ম বদল জানিয়ে দেওয়ার পরও এবার বাতিল করতে হচ্ছে সেই ঘোষণা। ভরা সভাঘরে রীতিমতো ভর্ৎসনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। মমতার এক কথাতেই বিফলে সব আয়োজন।
গত সপ্তাহে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল এক সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেন যে, প্রাথমিক শিক্ষায় এবার থেকে চালু হবে সেমিস্টার সিস্টেম। বছরে ২ বার করে হবে পরীক্ষা। সেক্ষেত্রে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত নতুন ব্যবস্থা চালু করার কথা বলা হয়। কিন্তু পুরো বিষয়টা তো রাতারাতি হয়নি। এর জন্য এক কমিটি তৈরি করে ৪০ দিন ধরে তৈরি করা হয়েছিল ব্লু প্রিন্ট।
প্রাথমিক পর্ষদ সূত্রের খবর, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সেমিস্টার পদ্ধতির ব্লুপ্রিন্ট বানাতে খরচ হয়েছিল প্রায় ৫ লক্ষেরও বেশি টাকা। টানা ৪০ দিন ধরে মোট ৪ জন পরামর্শদাতা পর্ষদে বসে এই কাজ করেছিলেন। নগদে খরচ হয়েছিল স্রেফ ৫ লক্ষেরও বেশি টাকা। পরামর্শদাতাদের যাতায়াত, আর সাম্মানিকের জন্য ওই টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু আখেরে লাভ হল কি কিছু?
সূত্রের খবর, পরামর্শদাতাদের কাজে কার্যত রুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কাজে যুক্ত করা হয়েছিল পর্ষদের প্রাক্তন কর্তাদের। পর্ষদের কর্মকাণ্ডে বেশ কয়েকজন আধিকারিক বিরক্ত হয়েছেন। টেন্ডার ছাড়া হঠাৎ কী করে কাজ হল? তার প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তবে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে নারাজ পর্ষদ।
আরও পড়ুনঃ আরজি কর কাণ্ডের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ধৃত সঞ্জয় রায়ের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইল সিবিআই! বিচার পাবে তিলোত্তমা?
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, কেন তাঁকে না জানিয়ে শিক্ষায় নতুন ব্যবস্থা চালু করার কথা বলা হল। ছোট ছোট শিশুদের ওপর এই সেমিস্টারের ভার অবশ্যই বেশি হবে বলেও মনে করেন তিনি। এরপর ব্রাত্য বসুকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, প্রাথমিকে পঠন-পাঠন চলছে যেভাবে, তেমনটাই চলবে, তার কোনও পরিবর্তন হবে না।





