সবচেয়ে উঁচু দুর্গা! বাংলায় তৈরি হচ্ছে ১১২ ফুটের দুর্গা, কিন্তু পুজোর অনুমতিই দিচ্ছে না পুলিশ, হাইকোর্টে মামলা পুজো কমিটির

সামনেই বাঙালির সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। আর ১৫ দিনও বাকি নেই দুর্গাপুজো। ঢাকে কাঠি পড়ল বলে। দিকে দিকে এখন শুধু দেবী বন্দনার প্রস্তুতি। এক বছর পর উমার ঘরে ফেরার পালা! শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। কিন্তু এরই মধ্যে এল এক খারাপ খবর। পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে পুজোর অনুমতিই পেল না এক ক্লাব। ফলে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তারা।

এই বছরের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ ১১২ ফুটের দুর্গা প্রতিমা। নদিয়ার রাণাঘাটের এক ক্লাবের তরফে এই সবচেয়ে উঁচু দুর্গা প্রতিমা বানানো হচ্ছে। এই খবর ছড়াতেই মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে কৌতূহল। অনেকে প্ল্যানও করে নিয়েছেন সেই দুর্গা প্রতিমা দর্শন করার। কিন্তু এবার সেই প্ল্যান ভেস্তে না যায়। কারণ এই পুজো করার অনুমতিই দিচ্ছে না স্থানীয় পুলিশ। সেই কারণে আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে মামলা। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বেঞ্চ এই মামলার অনুমতি দিয়েছে।

 রাণাঘাটের কামালপুর এলাকার অভিযান সংঘের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এই এত বড় দুর্গা প্রতিমা বানানোর। বাংলায় এত উঁচু দুর্গা প্রতিমা এর আগে হয়নি। ১১২ ফুট দুর্গা প্রতিমা বানানোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। চলছে তোড়জোড়। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ পুজোর অনুমতি দিচ্ছে না বলেই অভিযোগ। সেই কারণেই এবার পুজোর উদ্যোক্তারা আদালতে দায়ের করলেন মামলা।    

Puja Organisers, Police, Ranaghat, 112 Feet Durga Idol, Calcutta High Court, permission

মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, “এত বড় দুর্গা বাংলার কোথাও আগে তৈরি হয়নি। এই পুজো হলে নতুন নজির গড়তে পারবে রানাঘাটের পুজো কমিটি”। পুলিশের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিচারপতির বেঞ্চের তরফে মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া হয়। শীঘ্রই মামলার শুনানি হবে।

পুলিশের তরফে জানানো হচ্ছে, ১১২ ফুটের দুর্গা প্রতিমা দর্শনের জন্য লাগামছাড়া ভিড় হবে দর্শনার্থীদের। ফলে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই প্রশাসনের তরফে কোনও ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না। এই জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই প্রসঙ্গে ২০১৫ সালে কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কের ৮৮ ফুটের দুর্গা প্রতিমার প্রসঙ্গ টানা হয়। সেই বছর সেই প্রতিমা দর্শনের জন্য যা ভিড় হয়েছিল, তা সামাল দেওয়া যায়নি। ফলে বন্ধ হয়ে যায় প্রতিমা দর্শন। এক্ষেত্রেও তেমনটা হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ ‘মমতার নির্দেশেই রাজ্যের বাঁধগুলি থেকে জল ছাড়ার কারণে এমন বন্যা হয়েছে’, এবার মুখ্যমন্ত্রীর দাবীর পাল্টা দিল বিজেপি

যদিও পুজোর উদ্যোক্তাদের মতে, নববর্ষের পর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। এত বড় প্রতিমার জন্য সমস্ত প্রতিবন্ধকতা মাথায় রেখেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা জানান, ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও করেছেন তারা। শেষ মুহূর্তে যদি পুলিশ অনুমতি না দেয়, তাহলে সবটা ভেস্তে যাবে। সেই কারণেই এবার উদ্যোক্তারা আদালতের দ্বারস্থ হলেন।

আরও অন্যান্য খবর