গরমের চাপে যেন হাঁসফাঁস করছে বাংলা! ফাল্গুন পেরিয়ে চৈত্র পড়তে না পড়তেই রোদের দাপট সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে চারপাশ। দুপুরের দিকে বাইরে বেরোনো দায়। পথেঘাটে ছাতা মাথায়, গামছা গলায় ঝুলিয়ে জল খাচ্ছেন মানুষজন। শরীরে ক্লান্তি, রাস্তায় ঝিম ধরে বসে থাকা পথচারী—এই দৃশ্য যেন রোজকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক জায়গায় শুরু হয়েছে গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা।
এর মধ্যেই সকলের মুখে একটাই প্রশ্ন—এবার কি একটু স্বস্তি মিলবে? আকাশের দিকে তাকিয়ে অনেকে বৃষ্টি প্রার্থনা করছেন। ফ্যান-এসি চললেও যেন শরীর শান্তি পাচ্ছে না। অফিসযাত্রী থেকে ছোট ছেলেমেয়ে, সকলেই চাইছে একটু স্বস্তির পরশ। কিন্তু গরমের এই দাপট কি চলবে? নাকি সামনে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা রয়েছে? এই প্রশ্নই ঘুরছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, মার্চের মাঝামাঝি থেকেই দক্ষিণবঙ্গে গরমের দাপট আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ-সহ বেশ কিছু জায়গায়ও প্রচণ্ড গরম থাকবে। তবে স্বস্তির খবর, গরমের এই দাপট দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ১৮ মার্চ থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে শুরু করবে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা খানিকটা হলেও গরম কমাবে।
আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮ মার্চের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টিপাত সাময়িক স্বস্তি দিলেও পুরোপুরি গরম কমাবে না। উত্তরবঙ্গের কিছু জেলাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, তবে সেখানে পরিস্থিতি তুলনামূলক শুষ্ক থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারের মতো পাহাড়ি এলাকায় হালকা ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ কিছুদিনের মধ্যেই রাশিচক্রে ভয়ংকর রদবদল! অর্থ, সম্পর্ক, চাকরিতে ধাক্কা আসছে কার ভাগ্যে?
গরমের প্রকোপ বজায় থাকায় আবহাওয়া দফতর থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমের বাসিন্দাদের প্রচণ্ড গরমের সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত জল খাওয়া, হালকা কাপড় পরা, শরীর ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, যেহেতু বৃষ্টি আসার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই বজ্রপাতের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। খোলা মাঠে থাকা, গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া, ধাতব বস্তু স্পর্শ করা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে দক্ষিণবঙ্গের মানুষ যেমন গরমে অতিষ্ঠ, তেমনি আশার আলো দেখাচ্ছে এই বৃষ্টির পূর্বাভাস। তবে বৃষ্টি হলেও পুরোপুরি গরম কমবে না। তাই সতর্কতা অবলম্বন করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ!





