মেয়ের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে ছেলের বলি! বিচার চাইতেই হুমকির মুখে বৃদ্ধ পিতা!

একজন বাবার কাছে সন্তানের মৃত্যু সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা। কিন্তু যদি সেই মৃত্যু হয় রহস্যজনক, যদি বাবার চোখের সামনে তাঁর পরিবার ধ্বংস হতে বসে, তাহলে? তখন একজন অসহায় বাবা কোথায় যাবেন? কাকে বলবেন তাঁর দুঃখের কথা? প্রশাসন কি তাঁর পাশে দাঁড়াবে, নাকি তাঁকেও ঠেলে দেবে অন্যায়ের অন্ধকারে? আগ্রার এক বৃদ্ধ পিতা এখন এই প্রশ্ন নিয়েই লড়াই করছেন। একদিকে তাঁর সন্তানের মৃত্যু, অন্যদিকে বিচার চেয়ে বারবার অপমানিত হওয়া—সব মিলিয়ে যেন এক দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিয়ে চলেছেন তিনি।

এই ঘটনা শুধু একজন বাবার নয়, এটি আমাদের সমাজের বাস্তব ছবি। আজ যে বাবার কান্না আমরা দেখছি, কাল হয়তো অন্য কোনো বাবা এই অবস্থার সম্মুখীন হবেন। কারণ অপরাধীরা জানে, ক্ষমতার দাপটে সত্যকে চেপে দেওয়া যায়, আর অসহায়দের কণ্ঠরোধ করাও খুব সহজ। কিন্তু এই বৃদ্ধ ব্যক্তি হাল ছাড়েননি। তিনি লড়ছেন, ন্যায়বিচারের আশায় পুলিশের দোরগোড়ায় গিয়ে বসে পড়েছেন, চোখে জল আর কণ্ঠে করুণ আর্তনাদ।

ঘটনাটি ঘটেছে আগ্রায়। বৃদ্ধের অভিযোগ, তাঁর কন্যাকে কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তি শারীরিক এবং মানসিকভাবে হেনস্থা করেছিল। তাঁর ছেলে এই ঘটনার সাক্ষী ছিল এবং প্রতিবাদ করেছিল। কিন্তু সেই প্রতিবাদের ফল হয় ভয়াবহ। কয়েকদিনের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় তাঁর ছেলের। বৃদ্ধের দাবি, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যা। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, এরপর থেকেই তাঁদের পুরো পরিবারকে হুমকির মুখে পড়তে হয়। মামলা দায়ের করতে গেলেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাঁদের। বৃদ্ধের বক্তব্য, “আমার ছেলেকে ওরা কেড়ে নিয়েছে। এখন আমার পুরো পরিবার বিপদের মধ্যে রয়েছে। পুলিশও আমাদের সাহায্য করছে না। আমি কি ন্যায় পাব না?”

আরও পড়ুনঃ তাপপ্রবাহের দাপটের পর বদলাবে আবহাওয়া! মার্চের শেষেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি?

বৃদ্ধ পিতার অভিযোগ, পুলিশ প্রথম থেকেই গড়িমসি করেছে। তিনি একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁকে হুমকি দিচ্ছে, যাতে তিনি চুপ থাকেন। তাঁর প্রশ্ন, “যদি আমার সন্তানের জন্য বিচার না পাই, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”এই ঘটনার পরই বৃদ্ধ ডিসিপি অফিসের সামনে এসে কেঁদে পড়েন। তাঁর অসহায় কান্নার ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। অনেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকে বলছেন, যদি সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অপরাধ করেও ছাড় পেয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের আশা করাই বৃথা।

বৃদ্ধের অবস্থা দেখে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তবে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ—এই তদন্ত কি সত্যিই সঠিক পথে হবে, নাকি প্রভাবশালীদের চাপের মুখে ধামাচাপা পড়ে যাবে? এই ঘটনার পর একটাই প্রশ্ন উঠছে—আমরা কি সত্যিই নিরাপদ? নাকি সমাজে সত্য কথা বলার জন্যই শাস্তি পেতে হয়? আগ্রার বৃদ্ধ পিতা হয়তো শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাবেন, কিন্তু ততদিনে তাঁর কান্নার ধ্বনি কি হারিয়ে যাবে শাসকের কোলাহলে?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর