অযোধ্যার রামমন্দিরের উদ্বোধনে ছিলেন তিনি। এর ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতায় আসেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। নেতাজির ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নেতাজির চিন্তাধারা নিয়ে কথা বললেন তিনি। এদিন সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামদেওজি চক্রধর, জয়ন্ত রায়চৌধুরী, কলকাতার হাজারখানেক স্বয়ংসেবকরা।
গতকাল, মঙ্গলবার নেতাজির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বারাসাত সত্যভারতী বিদ্যাপীঠের মাঠে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। রামমন্দিরের উদ্বোধনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও, এদিন রামমন্দির নিয়ে কোনও কথা শোনা যায় নি তাঁর মুখে।
কী বললেন মোহন ভাগবত?
এদিনের এই অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান বলেন, “নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর চিন্তনের সঙ্গে আমাদের চিন্তাধারার কোন পার্থক্য নেই। উনি চাইতেন, সমাজের সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে, সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে কাজ করতে। আমরাও সেটাই চাই”।
এদিন স্বয়ংস্ববকদের সামনে মোহন ভাগবত তুলে ধরেন ব্রিটিশ আমল থেকে দেশকে স্বাধীন করার জন্য নেতাজির চিন্তাভাবনা, দেশের জন্য তাঁর অবদান, তাঁর জীবনাদর্শন সম্পর্কে নানান কথা। মোহন ভাগবত বলেন, “ভারত গড়ার ক্ষেত্রে নেতাজির স্বপ্ন এখনও অধরা রয়েছে। এটা আমরা জানি। কিন্তু নেতাজির সেই অধরা স্বপ্ন পূরণ আমাদেরই করতে হবে”।
এদিন মোহন ভাগবত এও বলেন যে নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে কংগ্রেস ছাড়তে হয়েছিল নেতাজিকে। মোহন ভাগবত বলেন, মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে বড়বারই সুভাষচন্দ্র বসুর মতভেদের মতাদর্শগত কারণ ছিল। গান্ধীজি ছিলেন দক্ষিণপন্থী ও নরমপন্থী স্বভাবের মানুষ। আর নেতাজী ছিলেন তাঁর সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি ছিলেন বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী, চরমপন্থী নেতা।
মোহন ভাগবতের কথায়, এই মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে মতবিরোধ হয় তাদের মধ্যে। কংগ্রেসের সভাপতির পদ ত্যাগ করেন নেতাজি। এই প্রেক্ষিতে মোহন বলেছেন, উভয়ের মধ্যে মতভেদ ব্যক্তিগত স্তরে থাকলেও, তারা কখনও নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করেননি। সংঘ প্রধানের কথায়, “এত মতামত থাকার পরও তিনি নিরবে পদ ছেড়ে গিয়েছিলেন”।





