সায়নীর মুখের আদলে যাদবপুরে মা দুর্গার মূর্তি! দুর্গার রূপ হয়েও আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের জন্য অসুর নিধনের লড়াইয়ে নামলেন না তৃণমূল সাংসদ

আর জি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় জ্বলছে গোটা বাংলা-সহ দেশ। এই ঘটনার প্রতিবাদ শুধুমাত্র দেশের মধ্যে আটকে নেই। বিদেশের মাটিতেও চলছে প্রতিবাদ, আন্দোলন। রাস্তায় নেমেছেন মহিলারা। গত বুধবার ১৪ আগস্ট মধ্যরাতে রাজ্যের নানান প্রান্তের মহিলারা দখল নেন রাস্তার। তরুণী চিকিৎসকের নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান তারা। কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যে কিন্তু একটা মুখ খুঁজে পাওয়া যায়নি, তিনি হলেন সায়নী ঘোষ।    

সায়নী ঘোষ যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জিতেছেন তিনি। এর আগে নানান সময় নানান প্রতিবাদেই অংশ নিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কিন্তু এক মহিলার জন্য হওয়া আন্দোলনে নির্বাক তিনি। রাজ্যের এক মহিলার উপর হওয়া নির্যাতনের প্রতিবাদ যিনি করলেন না, কোনও বাক্য, কোনও শব্দ ব্যয় করলেন তাঁকেই যাদবপুরের এক দুর্গাপুজোর মুখ করা হয়েছে।

যাদবপুরের কেন্দুয়া শান্তি সংঘের দুর্গাপুজো বেশ নামকরা। সেই পুজোরই মুখ করা হয়েছে তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষকে। এবারে এখানকার পুজোর থিম হল ‘অনুনাদ। এই পুজোর মঞ্চ সাজিয়ে তোলার দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী সুশান্ত পাল। তাঁর ভাবনা ‘অনুনাদ’-কে সামনে রেখেই সায়নীকে এই পুজোর মুখ করা হয়েছে বলে খবর।

জানা গিয়েছে, সায়নী লোকসভা ভোটের প্রার্থী হওয়ার আগেই শিল্পী সুশান্ত পাল সায়নীকে পুজোর মুখ করার পরিকল্পনার কথা জানান পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের। শিল্পীর ভাবনাকে মান্যতা দিয়েই এই প্রস্তাব যায় সায়নীর কাছে। তিনি এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন। এরপরই যাদবপুরের কেন্দুয়া সংঘের দুর্গাপুজোর মুখ বানানো হয়েছে সায়নীকে।

তবে এর থেকে প্রশ্ন উঠেছে, যে সায়নী দুর্গাপুজোর মুখ হয়েছেন, সেই সায়নীকে তো কই রাজ্যের এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় একবারও মুখ খুলতে দেখা গেল না। দুর্গার মুখ হলেও রাজ্যের এই নারকীয় মানুষরূপী অসুরের নিধনের জন্য রাস্তায় নামতে বা কোনও প্রতিবাদ করতে শোনা গেল না। কেন? শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকলেও একজন নারী হিসেবে কী তিনি সত্যিই অপারগ ছিলেন এমন এক ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে? যিনি অপরাধীর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেন না, তাঁর মুখ কী দেবী দুর্গারূপে সত্যিই মেনে নেওয়া যায়? মা দুর্গা তো দুষ্টের দমনের প্রতীক! এমন নানান মন্তব্যই উঠে আসছে সায়নীকে দুর্গাপুজোর মুখ করার কথা ঘোষণা হতেই।   

আবার অনেকেরই প্রশ্ন, শাসকদলের সাংসদ বলেই কী সায়নীকে দুর্গাপুজোর মুখ করা হয়েছে। এই বিষয়ে এই পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক বলছেন, “রাজনীতিতে আসার আগে থেকেই সায়নী অভিনেত্রী হিসাবে জনপ্রিয়। আমরা গত বার অভিনেত্রী অরুণিমা চক্রবর্তীকে আমাদের পুজোর মুখ করেছিলাম। সব ক্ষেত্রে শিল্পীর ভাবনাকেই আমরা মান্যতা দিয়ে এসেছি। তেমন এ ক্ষেত্রেও শিল্পীই সায়নীর নাম আমাদের কাছে প্রস্তাব করেছিলেন। তাঁর ভাবনাকে সম্মান জানিয়েই আমরা সায়নীকে পুজোর মুখ করেছি। আমাদের দু’জনেরই তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি হওয়াটা নেহাতই কাকতালীয়”।

RELATED Articles