‘গরমে দাহ্য বস্তু থাকলে বিস্ফোরণ হতেই পারে, জঙ্গলেও আগুন লাগে দেখেন না’, রাজ্যে পরপর বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ নিয়ে সাফাই সৌগতর

গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যে একের পর এক বাজি তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণের জেরে একাধিকের মৃত্যু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যে অবৈধ বাজির কারখানা বন্ধ করতে উদাসীন রাজ্য। এমন আবহে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এবার এই পরপর বিস্ফোরণের কারণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়।

সৌগত রায়ের কথায়, “যা গরম তাতে পটাশিয়াম ক্লোরেট, আর্সেনিক ট্রাই সালফেড বাইরে রেখে দিলে এমনিতেই ফেটে যাবে। এই গরমে বিস্ফোরণ হতেই পারে। দেখেন না, গরমে জঙ্গলে আগুন লেগে যায়। তেমনই”।

তাঁর এহেন মন্তব্যকে নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়ে নি বিরোধীরা। একদিকে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “এই গরমে সৌগত রায়ের তার কেটে গিয়েছে মনে হচ্ছে”। অন্যদিকে আবার সিপিএম নেতা কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “সৌগতবাবু একমাত্র লোক যিনি নারদে টাকা হাতে নিয়ে থ্যাঙ্ক ইউ বলেছিলেন। বিস্ফোরণ নিয়ে এমন তত্ত্ব হাজির করার জন্য তাঁকেও থ্যাঙ্ক ইউ বলতে চাই। শুধু জানতে ইচ্ছে করে, বুড়িমার কারখানায় তো কোনও গরমে এমন হয়নি। পিসিমার রাজত্বে এমন হচ্ছে কেন”?

পরপর বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনায় পুলিশি ব্যর্থতার অভিযোগ করছেন অনেকেই। তবে সৌগত রায় এতে পুলিশের কোনও দোষ দেখছেন না। তাঁর কথায়, “বাংলার ৩৮ হাজার গ্রামের কোথায় বোমা লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তা পুলিশের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। আর খুঁজবেই বা কীভাবে”? তবে আজ, মঙ্গলবার দুপুরে নবান্নের বৈঠকে জেলার পুলিশ সুপারদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা।

সৌগত রায়ের মন্তব্য প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা সবাই জানি বাজি একটা শিল্প। বাজি তৈরি হয়। নিজেরা কিনি, পোড়াই। এখন বাজি কারখানা শুনলেই বিভিন্ন উক্তি শোনা যাচ্ছে। বোমার কথা আসছে, এটা কেন? আর বাজি কারখানায় তো আর বিরিয়ানির মশলা পাওয়া সম্ভব নয়”।

উল্লেখ্য, গত ১৬ই মে এগরার খাদিকুল গ্রামের অবৈধ বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে। সেই ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর ২১শে মে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বজবজের মহেশতলা গ্রামের বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ফলে মৃত্যু হয় তিনজনের। আজ, মঙ্গলবার ভোরে মালদহের ইংরেজবাজারের এক বাজির গুদামে বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পরপর এমন ঘটনা ঘটায় রাজ্যের নানান প্রান্তে বাজি উদ্ধারে তৎপর হয়েছে পুলিশ। জেলায় জেলায় চলছে তল্লাশি। ইতিমধ্যেই নানান প্রান্ত থেকে প্রচুর পরিমাণে বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

RELATED Articles