এক সময় যাঁকে টলিপাড়ার ‘ওয়েব সিরিজ আইকন’ বলে ধরা হতো, সেই সৌরভ দাস আজ রাজনৈতিক এবং অভিনয়ের দুই দিক নিয়েই এক ধোঁয়াশার কেন্দ্রে। সাহসী চরিত্র, তীক্ষ্ণ মন্তব্য ও আলাদা স্টাইলের জন্য পরিচিত সৌরভ একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সৌরভই এখন স্পষ্ট জানাচ্ছেন— “রাজনীতি আমার দ্বারা হবে না।”
রাজনীতির মঞ্চে সৌরভের যাত্রা খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। নিজেই স্বীকার করছেন, “রাজনীতিতে থাকতে গেলে চামড়া মোটা হতে হয়”— অর্থাৎ শিল্পীমনের জায়গা রাজনীতিতে বড়ই সংকীর্ণ। তবে এই কথার মধ্যে হতাশার ইঙ্গিতও স্পষ্ট। কোনও আনুষ্ঠানিক দলত্যাগ নয়, আবার তৃণমূল থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নও নন— এর ফলে তৈরি হয়েছে অদ্ভুত এক ধোঁয়াশা।
এবার সৌরভকে দেখা যাবে পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর বিতর্কিত ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এ। যে ছবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেকেই মনে করছেন, ছবিটি বিজেপি ঘেঁষা একরৈখিক প্রচারচিত্র। এই প্রেক্ষিতে সৌরভের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিনেতা অবশ্য বলছেন— “আমি চরিত্র দেখে কাজ করি, রাজনীতির রং দেখে নয়।” কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, একবার যখন কেউ রাজনৈতিক মঞ্চে পা রাখেন, তখন কি আর রাজনৈতিক দায় থেকে পুরোপুরি নিজেকে সরিয়ে রাখা যায়? তার উপরে আবার তিনি মন্তব্য করেছেন— “যদি আবার ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ডাকা হয়, আমি নিশ্চয়ই যাব।”
এই অবস্থানে অনেকেই মনে করছেন, সৌরভ সুযোগ বুঝে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন। কেউ বলছেন, এইটা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। আবার কেউ বলছেন, ‘অরাজনৈতিক শিল্পী’ হওয়ার নাম করে দ্বৈত অবস্থান নিচ্ছেন সৌরভ, যা তাঁর আগের স্পষ্ট বক্তব্যের সঙ্গে খাপ খায় না।
আরও পড়ুনঃ Israel Iran Conflict: শুরু ধর্মীয় নেতা বাছাই! ইরানে নেতৃত্ব বদলের আভাস? মৃত্যু আশঙ্কায় উত্তরসূরি বেছে নিলেন আয়াতুল্লাহ খামেনেই!
একদিকে বিজেপি ঘনিষ্ঠ ছবিতে কাজ, অন্যদিকে সবুজ শিবিরের প্রতি টান— এই মিশ্র বার্তায় সৌরভের রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন তাঁর বহু অনুরাগী। নিজেকে শুধু অভিনেতা বলেই দাবি করলেও, বর্তমানে তাঁর ভূমিকা কিন্তু অনেক গভীর সামাজিক প্রভাব ফেলছে। আর সেখানেই তৈরি হচ্ছে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।





