তেহরান: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই কি নিজের মৃত্যু বুঝে গিয়েছেন? অন্তত এমনটাই দাবি করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাঙ্কারে আত্মগোপন করে থাকা অবস্থাতেই তিনি তিনজন সম্ভাব্য উত্তরসূরিকে বেছে নিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে একজন তাঁর মৃত্যুর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের এক দশক পর, ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার দায়িত্বে আসেন খামেনেই। গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনিই ছিলেন ইরানের রাজনীতি ও ধর্মীয় ক্ষমতার শীর্ষে। কিন্তু সাম্প্রতিক ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনার পর তাঁর জীবন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ প্রকাশ্যে তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এমনকি তাঁরা সাদ্দাম হুসেনের পরিণতির সঙ্গেও খামেনেইয়ের ভবিষ্যতের তুলনা টেনেছেন। এর পর থেকেই বাঙ্কারে চলে যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, এবং এখন তিনি কোথায় রয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।
এমন সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে, খামেনেই তাঁর তিনজন সম্ভাব্য উত্তরসূরিকে বাছাই করেছেন বলে দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর। প্রথম নাম মোজতাবা খামেনেই—খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষায় পারদর্শী এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় মোজতাবা এই পদে সবচেয়ে এগিয়ে।
বাকি দুই নাম প্রকাশ্যে না এলেও বিশেষজ্ঞ মহলের অনুমান, তালিকায় রয়েছেন আলিরেজা আরাফি—খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা। আর তৃতীয় নাম হাশেম হুসেইনি বুশেরি, যিনি ইরানের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন এবং খামেনেইয়ের আস্থাভাজন বলেই পরিচিত।
আরও পড়ুনঃ USA vs Iran: তিন পরমাণু কেন্দ্রে হামলা! ট্রাম্পের ‘স্টেলথ’ স্ট্রাইকে কেঁপে উঠল তেহরান!
খামেনেইয়ের পর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব কার হাতে যাবে—তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতেও এই সম্ভাব্য পালাবদল বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।





