জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে সিনিয়ররা, এবার অনশনে বসলেন সিনিয়র চিকিৎসকরা, ন্যায় বিচারের দাবীতে অনড় সকলে

যেমন কথা ছিল, তেমনই হল কাজ। জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে এবার ধর্মতলায় অনশনে বসলেন সিনিয়র চিকিৎসকরাও। দুই মহিলা চিকিৎসক-সহ তিন সিনিয়র চিকিৎসক শুরু করলেন এই অনশন। জানা যাচ্ছে, এরপর আরও ১০-১২ জন চিকিৎসক যোগ দেবেন এই কর্মসূচিতে। তারা জানাচ্ছেন, কোনও সংগঠন নয়, ব্যক্তিগত ইচ্ছাতেই তারা এই অনশন করছেন।  

গতকাল, রবিবারই চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী জানিয়েছিলেন যে এবার সিনিয়র চিকিৎসকরাও যোগ দেবেন অনশনে। তেমনটাই হল। আজ, সোমবার দুই সিনিয়র মহিলা চিকিৎসক কোয়েল মিত্র, শ্রাবণী চক্রবর্তী জুনিয়রদের সঙ্গে অনশন শুরু করেছেন। এঁরা দুজন ছাড়াও রয়েছেন তাপস ফ্রান্সিস বিশ্বাস, মুনমুন কীর্তনিয়া। জানা গিয়েছে, এঁরা সকলেই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনী।

গত শনিবার রাত থেকেই তরুণী চিকিৎসকের ন্যায় বিচারের দাবীতে অনশন শুরু করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। প্রথম দফায় ৬ জন শুরু করেছে এই কর্মসূচি। এই ৬ জন চিকিৎসক হলেন অনুষ্টুপ মুখোপাধ্যায় (কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ), অর্ণব মুখোপাধ্যায় (এসএসকেএম), তনয়া পাঁজা (কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ), সায়ন্তনী ঘোষ হাজরা (কেপিসি), পুলস্ত্য আচার্য (এনআরএস) এবং স্নিগ্ধা হাজরা (কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ)।

তবে আর জি করের কোনও চিকিৎসক এই অনশনে না থাকায়, তা নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই বিষয়ে চিকিৎসক দেবাশিস হালদার ও চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো বলেন, “কেন আর জি করের কোনও জুনিয়র ডাক্তার আমরণ অনশনে নেই, তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হচ্ছে। আমরা হয়তো ভুলে যাচ্ছি, আর জি করে সমস্যা একটা নয়। যে থ্রেট কালচার নিয়ে এত কিছু, তার বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে”। তবে গতকাল, রবিবার রাত থেকে অনশন শুরু করেছেন আর জি করের জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহতো।

প্রসঙ্গত, প্রায় ৫৮ দিন কর্মবিরতির পর কাজে ফিরেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের এই আন্দোলনে তাদের প্রথম থেকে সমর্থন জুগিয়ে এসেছেন সিনিয়র চিকিৎসকরা। তবে এবার যদি তারা অনশন শুরু করেন, তাহলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়া নিয়ে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। যদিও চিকিৎসকদের দাবী, পরিষেবায় কোনও খামতি থাকবে না।

আরও পড়ুনঃ গৃহবধূর গোপন ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল, লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ, মুখ খুললে খুনের হুমকি, কী চলছে বাংলায়?

এই অনশন করতে গিয়ে যদি কোনও চিকিৎসক অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে সেই দায় কার? জুনিয়র চিকিৎসকদের কথায়, তাদের দাবীগুলি অত্যন্ত ন্যায্য দাবী। সরকার যদি সেই দাবী মেনে নেয়, তাহলে এই দিন আসবে না। তাদের কথায়, তারা দুটি শর্তেই এই ইনশন তুলবেন। এক, তাদের সমস্ত দাবী মেনে নেওয়া হলে আর দুই, তাদের মৃত্যু হলে। তারা এও জানান, এই অনশন মঞ্চে যদি কারোর কিছু হয়, তাহলে সেই দায় রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে।  

RELATED Articles