রাজনীতি কখন যে কোন বাঁকে মোড় নেয়, তা বোঝা মুশকিল। বিশেষ করে যখন সেই রাজনীতি ঘিরে থাকে নির্বাচনের আগে দলবদল বা নেতৃত্ব বদলের গুঞ্জন। বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির অভ্যন্তরীণ চালচিত্র বর্তমানে বেশ চর্চায়। রাজ্য সভাপতি পদে পরিবর্তন হবে কি না, সেই আলোচনাই এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। আর সেই সূত্রেই সামনে এসেছে এক নতুন নাম—শমীক ভট্টাচার্য।
সোমবার সকালেই কলকাতা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন রাজ্যসভার সাংসদ ও রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। প্রথমে দাবি করা হয়, তিনি একটি সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যোগ দিতেই রাজধানীতে যাচ্ছেন। তবে দুপুর গড়াতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনার আগুন ছড়িয়ে পড়ে, কারণ খবর আসে—সন্ধ্যায় জেপি নড্ডার বাসভবনে আমন্ত্রিত শমীক। প্রশ্ন ওঠে, শুধুই কি সংসদীয় কাজ? না কি আরও বড় কিছু?
সূত্রের খবর, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নড্ডার বাসভবনে এই আমন্ত্রণ ছিল যথেষ্ট ‘সুনির্দিষ্ট’। যদিও বাইরে মুখে বলা হচ্ছে বিদেশফেরত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ডেকেছিলেন নড্ডা, বাস্তবে এই আমন্ত্রণের পেছনে রাজ্য সভাপতির দায়িত্বভার সম্পর্কিত বার্তা লুকিয়ে আছে বলেই দাবি বঙ্গ বিজেপির একাংশের। একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এটা শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়—বরং শমীক ভট্টাচার্যের কাঁধে বড় দায়িত্ব পড়তে চলেছে তারই ইঙ্গিত।
বর্তমানে রাজ্য সভাপতি পদে থাকা সুকান্ত মজুমদার ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি মেনে কি তিনি সভাপতির পদ ছাড়বেন? সেই জল্পনা উস্কে দিয়েই এখন উঠে আসছে শমীকের নাম। সূত্র বলছে, ২ জুলাই মনোনয়ন পেশ এবং ৩ জুলাই সভাপতির নাম ঘোষণার সম্ভাবনা থাকায়, তার আগেই দিল্লিতে শমীকের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ Train Disruption: রাস্তার দাবিতে রেল অবরোধ! আটকে হাসনাবাদ শাখার আট ট্রেন, অফিস টাইমে হাহাকার!
রাজ্য নেতৃত্বকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে যে, বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল ‘বুথ সশক্তিকরণ’ অভিযান নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন এবং সভাপতি নির্বাচনের নির্ঘণ্টও জানিয়ে দিয়েছেন। রবিশঙ্কর প্রসাদকে নির্বাচন আধিকারিক করে কলকাতায় পাঠানো হবে। এরই মাঝে শমীকের দিল্লি যাত্রা ও নড্ডার বাসভবনে সাক্ষাৎ রাজ্য বিজেপির পরবর্তী সভাপতির সম্ভাব্য নাম যে তিনিই হতে চলেছেন, সেই বার্তাই যেন দিচ্ছে—অন্তত বিজেপির অন্দরমহল তাই বলছে।






