ধোয়ামোছা শুরু! দলের ভাবমূর্তি ফেরাতে দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে মেন্টর পদ থেকে ইস্তফা সোনা পালের!

কাটমানি, ত্রাণ দুর্নীতি বিধানসভা নির্বাচনের আগে কার্যত এই দুই কারণেই অস্বস্তিতে শাসক শিবির। আর নির্বাচনের আগে দলের ভাবমূর্তি ফেরাতে তাই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের মেন্টর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শুভাশিস পাল। একই সঙ্গে তাঁর দাবি ওই ভাইরাল ভিডিও ক্লিপিং এডিট করা। সত্যতা প্রমাণে আইনের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজে ফেসবুকে লাইভ এসে এমনটাই জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের মেন্টর শুভাশিস পাল। নিজের ইস্তফাপত্র এদিন ইমেইল করে পিএনআরডি দফতরে পাঠিয়েছেন বলে জানান তিনি। শুক্রবার জেলাশাসককেও পাঠাবেন ওই ইস্তফা পত্র। ভাইরাল হওয়া ভিডিও যদি ভুয়ো প্রমাণিত হয় তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন পালবাবু।

যদিও এই ঘটনাকে শুধুমাত্র তৃণমূলের আই ওয়াশ বলেই দাবি করেছেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন শুভাশিস ওরফে সোনা পাল তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছে। তৃণমূল থেকে তো সরে যাননি। এরপর আবার যে পদে আসবে সেও একই কাজ করবে। এছাড়াও দুর্নীতিতে যুক্ত যেসব ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে ওই ভিডিওতে তাঁদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুকান্তবাবু।

উল্লেখ্য, সরকারী প্রতিটি জনমুখী কাজে ঠিকাদার সংস্থার গুলির কাছ থেকে কাটমানি তোলার অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের এই মেন্টরের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বালুরঘাটে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক করে দুটি ভিডিও ক্লিপিং প্রকাশ্যে এনে এমনই দাবি করেছিলেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। বিজেপির প্রকাশিত ওই ভিডিওতে নির্মল বাংলা মিশন প্রকল্পের শৌচালয় তৈরিতে শতাংশ হারে কাটমানি আদায়ের দাবি জানিয়েছেন শুভাশিস। শুধু তাই নয়, এর পিছনে তার উপর তলার সমস্ত লোকজন, বিডিও সহ সকলকেই আলাদাভাবে টাকা দিতে হয় বলেও উল্লেখ করেছেন সোনা।

যদিও প্রথম থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ‌ই সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন সোনা নামক তৃণমূল নেতা। তিনি বলেন যে ভিডিও ক্লিপিং প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে কোথাও কাটমানির কথা উল্লেখ নেই। নোংরা রাজনীতি করছেন বিজেপি। এদিন ওই ভিডিও সত্যতা যাচাইয়ে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সোনা পাল।

আরও অন্যান্য খবর