প্রায় এক দশক ধরে নানা মামলা, রায় আর অনিশ্চয়তার ঘূর্ণিপাকে শেষমেশ ফের শুরু হল স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রবিবার নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা দিতে বসেছেন কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থী। তবে এই পরীক্ষার আবহ যেন আগের সব কিছুর চেয়ে আলাদা। কারও চোখে নতুন স্বপ্ন, আবার কারও মনে ক্ষোভ ও হতাশা।
এদিন শিলিগুড়ির নেতাজি গার্লস হাইস্কুলে পরীক্ষা দিতে এসে চাকরিহারা শিক্ষিকা অনামিকা রায় স্পষ্ট জানালেন তাঁর ক্ষোভ। আগে যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি পেয়েছিলেন, কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতির জেরে সেই চাকরি হারাতে হয় তাঁকে। পরে আদালতের রায়ে ফের সুযোগ এলেও ভাগ্যের পরিহাসে সেই চাকরিও বাতিল হয়। তাই বাধ্য হয়ে আবারও পরীক্ষা দিতে আসতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর কথায়, “বারবার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হচ্ছে, অথচ নিশ্চিত নই যে এবারও চাকরি স্থায়ী হবে।”
শুধু অনামিকা নন, অনেকেই একই ক্ষোভের সুর তুলেছেন। আন্দোলনের অন্যতম মুখ সুমন বিশ্বাস বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পরীক্ষা হচ্ছে, কিন্তু যোগ্য তালিকা এখনও প্রকাশ হয়নি। আমরা জানি, এই পরীক্ষার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত।” অভিযোগ তুলেছেন, নতুন লিস্টেও অযোগ্য প্রার্থীরা রয়েছেন। তাঁর দাবি, এসএসসি তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা নিচ্ছে এবং এর ফলে ফের মামলা হতে পারে। সব মিলিয়ে মানসিক চাপ নিয়েই তাঁদের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।
এই ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক চাকরিহারা অভিনব প্রতিবাদও করেছেন। কালো পোশাক পরে তাঁরা জানালেন, প্রকৃত যোগ্য হয়েও যদি সহকর্মী বা ছাত্রদের ইনভিজিলেটর হিসেবে দেখতে হয়, তবে সেটা একরকম অসম লড়াই। এদিন রাজ্যের মোট ৬৩৬টি কেন্দ্রে ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। শুধু বাংলাই নয়, উত্তরপ্রদেশ, বিহারের মতো রাজ্য থেকেও বহু পরীক্ষার্থী যোগ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই লড়াই শুধু চাকরির জন্য নয়, মর্যাদার জন্যও বলে দাবি তাঁদের।
আরও পড়ুনঃ Defense Alert: পাক হুমকির মাঝেই রাফালে উড়ে পূর্ব ভারতের সীমান্তে সেনা প্রস্তুতি পর্যালোচনা করলেন চিফ অফ ডিফেন্স এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত!
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের পুরোনো পরীক্ষার নিয়মে স্নাতক পর্যায়ে অন্তত ৪৫ শতাংশ নম্বর থাকলেই আবেদন করা যেত। পরে সেই নিয়ম বদলে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ বাধ্যতামূলক করা হয়। এবারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নবম-দশমে ২৩ হাজার ২১২ এবং একাদশ-দ্বাদশে ১২ হাজার ৫১৪ পদে নিয়োগ হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের লড়াইয়ে নামছেন পরীক্ষার্থীরা। তবে দীর্ঘ আন্দোলন, মামলা আর দুর্নীতির অভিযোগের আবহে এই পরীক্ষার ফল কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়ে গেল।






